ঢাকা: দেশের খনিজ বালু শিল্পের গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্ভাবনাময় খনিজ সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (BAEC) এবং এভারলাস্ট মিনারেলস লিমিটেডের (EML) মধ্যে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম. মঈনুল ইসলাম এবং এভারলাস্ট মিনারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসাইন টিটু।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।
সমঝোতার আওতায় খনিজ বালু শিল্পের উন্নয়নে শিল্পভিত্তিক গবেষণা ও উন্নয়ন, তথ্য ও জ্ঞান বিনিময় এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ তৈরি হবে। নদী ও দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় দ্বীপাঞ্চল, বিশেষ করে ভোলা, পটুয়াখালী ও নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় খনিজ বালুর নমুনা সংগ্রহ, ভৌত ও রাসায়নিক বিশ্লেষণসহ প্রয়োজনীয় গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করবে দুই প্রতিষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান, গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলা জরুরি। এ সমঝোতার মাধ্যমে খনিজ বালুর সম্ভাবনাময় সম্পদের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও শিল্পে ব্যবহারযোগ্যতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি হয়েছে।’
সমঝোতা অনুযায়ী, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার জিওলজিক্যাল সায়েন্সেস (INGS) মাঠ ও পরীক্ষাগারভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। কমিশন নিজস্ব সুবিধায় সংগৃহীত বালুর নমুনা বিশ্লেষণ করবে। অন্যদিকে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে প্রয়োজন অনুযায়ী এভারলাস্ট আধুনিক হাইড্রলিক কোর ড্রিল রিগ ও নৌযান সরবরাহ করবে এবং মাঠপর্যায়ের টিমের প্রয়োজনীয় সফর ব্যয় বহন করবে।
খনিজ বালুর মিনারেলজি, জিওকেমিস্ট্রি ও মেটালার্জি, খনিজ পৃথকীকরণ, গুণগত মান ও গঠন বিশ্লেষণ, আপগ্রেডেশন প্রযুক্তি এবং শিল্পে ব্যবহারযোগ্যতা নিয়েও যৌথ গবেষণা করা হবে।
এছাড়া কমিশনের প্রতিনিধিরা এভারলাস্টের অনুসন্ধান/খনন প্রকল্প ও খনিজ বালু প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট পরিদর্শন করতে পারবেন। পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে গবেষণাগার, গবেষণা সুবিধা ও অন্যান্য সহযোগিতামূলক কার্যক্রমও পরিচালিত হবে।
সমঝোতা স্মারকের প্রাথমিক মেয়াদ তিন বছর। উভয় পক্ষের লিখিত সম্মতির ভিত্তিতে পরবর্তী মেয়াদে এটি নবায়ন করা যাবে। এটি কোনো ব্যবসায়িক চুক্তি নয়; দেশের খনিজ বালু শিল্পের গবেষণা ও উন্নয়ন এবং এর মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নই এর মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার জিওলজিক্যাল সায়েন্সেসের পরিচালক ড. মো. গোলাম রাসুল-সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং এভারলাস্ট মিনারেলস লিমিটেডের সিনিয়র কনসালট্যান্ট মো. খায়রুল ইসলাম ও জেনারেল ম্যানেজার মো. বাহারুল আলম বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এভারলাস্ট মিনারেলস দেশের খনিজ বালু অনুসন্ধান ও খনন কার্যক্রমে কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠান। এ খাতে তাদের কার্যক্রম দেশের খনিজ বালু শিল্পের গবেষণা ও সম্ভাবনাময় সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।