ঢাকা: ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে জিজ্ঞাসা করতে চাই- তিনি যেভাবে দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, তার যে মন-মানসিকতা ও চিন্তাধারা, বিগত দিনে আমরা সে জিনিসগুলো কখনই দেখতে পাইনি এবং তার এই যে চেষ্টা, মেহনত ও দেশের প্রতি ভালোবাসা, এটা দেখে আমরা নিজেরাও বেশ অনুপ্রাণিত হই’— দেশের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সামগ্রিক কর্মকাণ্ড, দৃষ্টিভঙ্গি ও মেহনতের প্রশংসা করে জাতীয় সংসদে এভাবেই নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করলেন মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নেতা সাঈদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে বক্তব্য দেওয়ার সময় সংসদ সদস্য সাঈদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করছিলেন। সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় সংসদ সদস্য হানজালা প্রধানমন্ত্রীর দেশপ্রেম ও অক্লান্ত পরিশ্রমকে ইতিবাচক ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এই ধরনের দূরদর্শী মানসিকতা ও উদ্যোগের প্রতি নিজের পরিপূর্ণ সমর্থনের কথা জানান।
বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় এমপি হানজালা তৃণমূল পর্যায়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে জানতে চান। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর অন্তরের শুভ চিন্তাধারা ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি তৃণমূল পর্যায়ের অনেক কর্মী বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি এখনো সঠিকভাবে অনুধাবন বা ধারণ করতে পারেননি এবং এই সীমাবদ্ধতা বা অনুধাবনের অভাবের কারণে মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের অন্যায়-অবিচার সংগঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।’ তাই প্রধানমন্ত্রীর সততা, মূল্যবোধ, মূল চিন্তাধারা ও দিকনির্দেশনামূলক বার্তা যেন একদম প্রান্তিক ও তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে পৌঁছে যায়, সে বিষয়ে তিনি কী ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ বা সমন্বিত উদ্যোগ নিতে পারেন, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট উত্তর জানতে চান এই আইনপ্রণেতা।
সংসদ সদস্যের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা মতামত ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘সংসদ সদস্য সাঈদ উদ্দিন আহমাদ হানজালার প্রশ্নটি আমার কাছে পুরোপুরি পরিষ্কার নয়, এবং আপনি যদি আমাকে বিষয়টি নিয়ে নির্দিষ্টভাবে নোটিশ দেন, তবে আমি সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করে এর যথাযথ উত্তর দেব।’
তবে এ সময় সরকারের সার্বিক নীতি ও দেশ পুনর্গঠন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের এই দেশকে নতুন করে গড়ে তোলা ও পুনর্গঠন করার যে সব পরিকল্পনা রয়েছে, সেই পরিকল্পনাগুলোর মূল রূপরেখা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ও তপশিলে স্পষ্ট করে তুলে ধরেছিল।’
রাষ্ট্র পরিচালনার বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জনগণের আমানত ও সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের পর রাষ্ট্র পরিচালনার সার্বিক সুযোগ আসার কারণে এবং পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি বাস্তবসম্মত তথ্য-উপাত্ত হাতে পাওয়ার ফলে সরকারের পরিকল্পনাগুলোকে আরও সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিতভাবে বাস্তবায়নের বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘একটি দেশের জন্য এত বড় ও বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা চূড়ান্ত করতে স্বাভাবিকভাবেই নির্দিষ্ট কিছু সময়ের প্রয়োজন হয়ে থাকে। সরকার যখন এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবে প্রয়োগ ও কার্যকর করা শুরু করবে, তখন দেশের সব পর্যায়ের মানুষ এবং প্রান্তিক সর্বস্তরের জনগণ স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সকল বিষয় স্পষ্টভাবে জানতে ও বুঝতে পারবেন।’