ঢাকা: আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র রবিউস সানি মাস গণনা। সেই হিসাবে, চাঁদের হিসাব অনুযায়ী আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সারাদেশে পালিত হবে পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম।
গতকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় দেশের সব জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে চাঁদ দেখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম কি
ইসলাম ধর্মের ইতিহাসে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, কাদেরিয়া তরিকার প্রতিষ্ঠাতা ও ‘বড় পীর’ নামে খ্যাত হজরত আবদুল কাদির জিলানী (রহ.)-এর ওফাত দিবস স্মরণে মূলত পালিত হয় ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম। হিজরি ৫৬১ সনের ১১ রবিউস সানি তিনি ইন্তেকাল করেন। ফারসি শব্দ ‘ইয়াজদাহম’ শব্দের অর্থ হলো ‘এগারো’, যা ১১ রবিউস সানির এই বিশেষ দিনটিকে নির্দেশ করে।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওফাতের প্রায় ৫০০ বছর পর ৪৭০ হিজরিতে ইরানের জিলান নগরীতে জন্ম নেন এই মহান সাধক। সে সময় ইসলামি মূল্যবোধ যখন শিথিল হয়ে পড়েছিল, ঠিক তখনই তিনি দ্বিনের পুনরুজ্জীবনে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন। বাগদাদের মহান পীর, হজরত আবু সাঈদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন মাখরুমি (রহ.)-এর সান্নিধ্যে তিনি মারিফাতের চরম উৎকর্ষ সাধন করেন এবং সুফি সাধনায় বিশ্বজুড়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তাঁর বাবার নাম সৈয়দ আবু সালেহ এবং মায়ের নাম বিবি ফাতেমা। প্রজ্ঞা, সংযম এবং কঠোর সাধনার জন্য বিশ্ব মুসলিমের কাছে তিনি চিরকাল পরম শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে থাকবেন।
আলেমদের মতে, ইসলামে কোনো ব্যক্তি বা অলি-আউলিয়ার স্মরণে উৎসবের মতো আনুষ্ঠানিকতা পালনের বাধ্যবাধকতা নেই। তবে পবিত্র এই দিনে মহান এই সাধকের রুহের মাগফেরাত ও শান্তি কামনায় দোয়া-মোনাজাত করা এবং তাঁর জীবনের আদর্শ, ত্যাগ ও দ্বিনি শিক্ষার ওপর আলোচনা করা একটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও সওয়াবের কাজ।