ঢাকা: শিশুদের ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে ২০২৭ সালের নতুন শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ‘খেলাধুলা’ নামে পৃথক একটি পাঠ্যপুস্তক যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বইটির লেখার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। বর্তমানে এটি পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর্যায়ে রয়েছে।
চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা’ বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ক্রীড়ামুখী করে গড়ে তুলতে শিক্ষার সঙ্গে খেলাধুলার সম্পর্ক আরও জোরদার করা হচ্ছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ক্রীড়া উৎসবের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আমিনুল হক বলেন, ২০২৭ সালের শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ‘খেলাধুলা’ নামে নতুন পাঠ্যপুস্তক যুক্ত করা হবে। বইটির কাজ প্রায় শেষ। এখন এটি পর্যালোচনা করে ভুলত্রুটি সংশোধন ও প্রয়োজনীয় পরিমার্জন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, নতুন পাঠ্যপুস্তকের সঙ্গে সরকারের ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির সমন্বয় থাকবে। কর্মসূচিতে যেসব ১০টি খেলাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, পাঠ্যবইয়েও সেগুলোকে প্রাধান্য দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলা শুধু প্রতিযোগিতা বা পদক জয়ের বিষয় নয়। সুস্থ জীবনযাপন এবং শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, ক্রীড়াবিদ তৈরিতে শুধু জাতীয় পর্যায়ে গিয়ে কাজ করলে হবে না। তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করে তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ দিতে হবে। এ লক্ষ্যেই বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা খুঁজে বের করতে নেওয়া ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি প্রসঙ্গে আমিনুল হক বলেন, প্রথম ধাপে অনলাইনে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার নিবন্ধন হয়েছিল। দ্বিতীয় ধাপে নিবন্ধনের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৫ লাখে পৌঁছেছে।
সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধনের সময় বাড়ানো হলে এই সংখ্যা ২০ লাখে পৌঁছাতে পারে বলেও জানান তিনি।
দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নকে কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে।
প্রথম ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি থেকে জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসা ৩০৬ জন খেলোয়াড়কে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে দুই মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) তাদের এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণ চলাকালে যেসব খেলোয়াড় অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দেবে, তাদের মধ্য থেকে যোগ্যদের বিনা খরচে বিকেএসপিতে ভর্তি করার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি খেলাধুলার সঙ্গে তাদের শিক্ষার খরচও সরকার বহন করবে।
তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া কার্যক্রম আরও জোরদার করতে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় ক্রীড়া কর্মকর্তার পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান আমিনুল হক।
এরই মধ্যে ২০১টি উপজেলায় ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া কর্মকর্তারা প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করা, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জন্য তাদের প্রস্তুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
ক্রীড়াক্ষেত্রে নেওয়া এসব উদ্যোগের ফল রাতারাতি পাওয়া যাবে না উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের পরিকল্পনার সুফল পেতে দুই থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এখন থেকেই শিশু ও তরুণদের পরিকল্পিতভাবে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে ভবিষ্যতে এর সুফল পাওয়া যাবে।
সরকারের লক্ষ্য শুধু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নয়, বরং পদক জয়ের মতো অবস্থানে বাংলাদেশকে নিয়ে যাওয়া বলেও জানান তিনি। এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে খেলোয়াড়দের কার্যক্রম শুরু হয়েছে জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, এশিয়ান গেমসের পর ১৩ থেকে ১৪টি খেলাকে বেছে নিয়ে বছরজুড়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি ক্রীড়াবিদ উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চায় সরকার।