Friday 30 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

‘দণ্ডিত ৭ আসামির খোঁজ পেলেই গ্রেফতার করে দেশে আনা হবে’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫:৩১ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:০৬

প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম

ঢাকা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা গেলে তাদের গ্রেফতার করে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

পলাতক সাত আসামি বর্তমানে কে কোথায় রয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের অবস্থান সম্পর্কে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। তবে তারা যেহেতু এখন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, তাই অবস্থান শনাক্ত করা গেলে গ্রেফতার করে বাংলাদেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মঙ্গলবার সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে অভিযোগ ভেদে কয়েকজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।’

এ ছাড়া পাঁচ আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এসব সম্পদ থেকে পাওয়া অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন বা আইনসিদ্ধ অন্য কোনো সংস্থার মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনে শহিদ ও আহতদের পরিবারের মধ্যে বণ্টনের কথা রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এই মামলায় প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে চারটি করে অভিযোগ আনা হয়েছিল। সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অধিকাংশ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল দণ্ড দিয়েছেন। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।’

তিনি আরও বলেন, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি এবং ব্যক্তিগত দায়ের বিষয়টি সাক্ষ্যপ্রমাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’ ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ১৪ দলীয় বৈঠকে কারফিউ ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত এবং ওবায়দুল কাদেরের ‘শুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশের পর নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ কয়েকজন আসামি বিভিন্ন গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজে মন্তব্য করছেন— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালে তাদের বিরুদ্ধে চলা বিচারিক কার্যক্রম সম্পর্কে তারা অবগত ছিলেন। কিন্তু বিচারপ্রক্রিয়ায় তারা অংশ নেননি। ফলে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে পলাতক রয়েছেন বলে ধরে নেওয়া যায়।’

তার ভাষ্য, কোনো আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে পলাতক থাকলে আইন অনুযায়ী তার অনুপস্থিতিতেই বিচারকার্য পরিচালনার বিধান রয়েছে। ফলে পলাতক আসামিদের বিভিন্ন বক্তব্যের আইনগত গ্রহণযোগ্যতা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘রায় প্রকাশের পর আপিলের জন্য ৩০ দিনের সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বা অন্য কোনো ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার সুযোগ সীমিত থাকতে পারে। তবে ৩০ দিন পার হওয়ার পর রায় বাস্তবায়নে সরকারের জন্য আইনগত কোনো বাধা থাকবে না।’

সারাবাংলা/টিএম/এমএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর