ঢাকা: সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আসিফ মাহমুদ ও তার স্ত্রী পান্নার নামে থাকা দেশ-বিদেশের সমুদয় ব্যাংকিং ও আর্থিক লেনদেনের নথি চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এ চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সংস্থাটির উপপরিচালক জাহিদ কালাম স্বাক্ষরিত বিএফআইইউ প্রধান বরাবর চিঠিটি পাঠানো হয় বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।
চিঠিতে যা চাওয়া হয়েছে
দুদক সূত্রে জানা যায়, বিএফআইইউতে পাঠানো চিঠিতে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও তার স্ত্রী পান্নার নামে ব্যাংকিং ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত সব ধরনের হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব, এফডিআর (FDR), লকার সুবিধা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ, দেশে ও বিদেশে শেল (Shell) কোম্পানি গঠন এবং অফশোর অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেনসহ যাবতীয় আর্থিক নথিপত্র। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব তথ্য দুদকে পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
অভিযোগের পটভূমি ও অনুসন্ধান
সম্প্রতি সাবেক এই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, তার বিরুদ্ধে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দফতর ও সংস্থায় পদায়ন ও বদলি বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকার ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও অনুসন্ধান করছে দুদক।
পাশাপাশি, তিনি দায়িত্বে থাকাকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া, কেনাকাটা ও বিভিন্ন প্রকল্পে যে কোটি কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে, সে বিষয়েও একটি পৃথক অনুসন্ধান টিমের মাধ্যমে বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের স্বার্থেই ব্যাংক হিসাব ও যাবতীয় সম্পদের হালনাগাদ তথ্য জরুরি। বিএফআইইউ থেকে প্রাপ্ত নথি পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।