ঢাকা: বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতার পক্ষে থাকলেও সেই স্বাধীনতার অর্থ কোনোভাবেই স্বেচ্ছাচারিতা নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সীমা কতটুকু হবে, তা নির্ধারণের দায়িত্ব সরকার কিংবা জনগণের নয়; এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার কেবল আদালতের। একটি সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমের মালিকানায় যিনি থাকেন, তার কর্মীদের বেতন ভাতা দিয়ে পরিচালনা করার সক্ষমতা আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা জরুরি। মুক্ত সাংবাদিকতার সুযোগ নিয়ে কোনো ধরনের ভুল তথ্য ছড়ানো বা অপপ্রচারের অবকাশ নেই বলে সাফ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিয়ত ছড়িয়ে পড়া অসত্য ও গুজব রুখতে গণমাধ্যমকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের তাগিদ দেওয়া হয়। প্রতিটি সংবাদ সংস্থাকে সত্যতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য ফুটিয়ে তোলাই বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে প্রেস সচিব বলেন, দীর্ঘ দশ বছর তারেক রহমানের বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার করতে দেওয়া হয়নি। তার বক্তব্য সে সময় গণমাধ্যমে প্রচার করতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। বিগত সরকারের সময় আমরা দেখেছি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দেওয়া হয়নি। যার ফলে, গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি। এছাড়াও, দেশে গণমাধ্যমের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। তবে, গণমাধ্যমের কোয়ালিটি কতোটা বেড়েছে? তা নির্ধারণ নেই।
তিনি বলেন, আমরা আশা করব, প্রতিদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে যেসব গুজব ছড়ানো হয়। তা রোধ করতে এবং সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন করতে প্রতিটি গণমাধ্যম প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট করে ফ্যাক্ট চেকিং এর একটা পোগ্রাম করলে মানুষ সত্য মিথ্যার তফাত করে সত্যটা জানতে পারবে। এটা বর্তমান সময়ে গুজব রুখতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নাগরিকের মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার কাজ করছে, যা গত ১৭ বছরে হয়নি। কল্যাণমূলক রাষ্ট্র তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ক্রমান্বয়ে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র তৈরি করতে সকল রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সালেহ শিবলী বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহ্যগত ধারাবাহিকতা রক্ষা করে এবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই অংশগ্রহণ শুধু দেশের জন্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও এক বড়ো গৌরবের বিষয়।
বিরোধীদলের কর্মসূচি নিয়ে সালেহ শিবলী বলেন, দাবি আদায়ে বিরোধীদলের কর্মসূচি থাকবে, তবে জনগণ কোনটা গ্রহণ করবে সেটা তারা নিজেরাই বিবেচনা করবে।
তিনি আরও বলেন, সবাই আন্তরিকভাবে ডেঙ্গু মশার বংশ বিস্তার রোধে সচেতন হতে হবে। না হলে ভয়াবহ দিকে যাওয়ার ঝুঁকি আছে, সরকারের একার পক্ষে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মূলত সবাই মিলেমিশে কাজ করা জরুরি। এর আগে আমরা দেখেছি, হাম-রুবেলা নিয়ে দেশে নানা রকম ঘটনা ঘটেছে। আমরা যদি কাউকে দোষারোপ করি তাহলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া যাবে না। আমরা কাউকে দোষারোপ না করে যে যার জায়গা থেকে দেশকে এগিয়ে নিতে মিলেমিশে কাজ করব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।