ঢাকা: বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় অভিজ্ঞ সার্জন এবং উচ্চশিক্ষিত অধ্যাপক থাকলেও একটি সুনির্দিষ্ট দীর্ঘমেয়াদি ভিশনারি প্ল্যানিংয়ের ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউটে কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের ৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘কার্ডিওভাসকুলার সার্জিক্যাল কনফারেন্স’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব তাগিদ দেন। ১৯৮১ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সফল ওপেন-হার্ট সার্জারি সম্পন্ন হয়েছিল, যা থেকে আজ দেশে কার্ডিয়াক সার্জারি চিকিৎসা ৪৫ বছর অতিক্রম করলো।
তিনি বলেন যে, হৃদরোগের প্রকোপ ক্রমাগত বাড়লেও বর্তমানে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত হওয়ায় হার্টের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের আর বিদেশে পাড়ি জমাতে হচ্ছে না। তবে দেশীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দক্ষতা ও সক্ষমতাকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে চিকিৎসাসেবার সামগ্রিক আউটপুট বহুগুণ বাড়াতে সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই।
সম্মেলনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আরও বলেন, রোগীদের জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি হাসপাতালে ২৪/৭ ইমার্জেন্সি সার্ভিস চালু রাখা আবশ্যক, যেখানে রোগী পৌঁছানোর ২ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক ওয়ার্কআপ সম্পন্ন করে ৬ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বর্তমান সরকার চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে স্বাস্থ্য বাজেটের পরিমাণ দ্বিগুণ করেছে এবং বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছেন। চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও মাসিক ভাতা বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি মনে করেন যে সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশের সাধারণ মানুষ প্রতিটি মুহূর্তে যথাযথ চিকিৎসা পাবে।