Friday 18 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

জাতিসংঘে নতুন বাংলাদেশকে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অপূর্ব কুমার
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৪৪ | আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৪৫

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঢাকা: নতুন বাংলাদেশকে তুলে ধরতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়বেন তিনি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন। তাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার অংশগ্রহণ শুধু একটি নিয়মিত কূটনৈতিক সফর নয়, বরং পরিবর্তিত বাংলাদেশের নতুন পরিচয় তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরশীল সূত্র জানিয়েছে, তারেক রহমানের এই সফরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন, গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং বৈশ্বিক শান্তি ও সহযোগিতায় বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা উঠে আসবে। গত বছরে অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু এবারে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রধান হিসেবে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি তাৎপর্যপূর্ণ হওয়ার আরও বড় একটি কারণ আছে। আর সেটি হলো-জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি ২০২৬ সালের ২ জুন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ৮ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বিজ্ঞাপন

তারেক রহমানের প্রথম জাতিসংঘ সফরের গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম জাতিসংঘ সফরের আলাদা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে এটি হবে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রথম বড় বৈশ্বিক উপস্থিতি। এই সফরে তিনি বেশ কয়েকটি বার্তা দিতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে- বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতায় বাংলাদেশ কোনো একক বলয়ের নয়, বরং সবার সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সুশাসন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের দিকে এগোতে চায়। বিশ্ব শান্তিরক্ষা, জলবায়ু, খাদ্য নিরাপত্তা, অভিবাসন ও মানবিক সংকটে বাংলাদেশ তার দায়িত্বশীল ভূমিকা অব্যাহত রাখতে চায়।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ২১-২৫ সেপ্টেম্বর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। তিনি আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন। পরদিন আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশের উদ্দেশে মার্কিন যু্ক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করবেন। ফিরে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই অল্প সময়ে প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ব্যস্ত শিডিউল থাকবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির পক্ষ থেকে একটি নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজনের কথা থাকলেও শিডিউল ব্যস্ততার কারণে তিনি সেখানে যোগ না দিতেও পারেন। রাষ্ট্রীয় কাজে এবং সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতি মেনে তিনি তার সফরটি সংক্ষিপ্ত করবেন বলে নির্ভরশীল সূত্রটি জানিয়েছে।

যাদের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক?

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বৈঠকের তালিকায় রয়েছেন- কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ আল-খালিদ আল-সাবাহ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেঙ্কোভিচ, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ।

এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডান নেলসনের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্র সূত্র জানায়, নিউইয়র্ক সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

নতুন বাংলাদেশ তুলে ধরার কূটনৈতিক সুযোগ

ঢাকার একাধিক কূটনৈতিক সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরের অন্যতম বড় বার্তা হবে, বাংলাদেশ একটি নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধ্যায়ের দিকে যাত্রা করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তিনি দেখাতে চাইবেন, বাংলাদেশ শুধু উন্নয়নের পরিসংখ্যান নয়, বরং একটি দায়িত্বশীল, স্থিতিশীল ও ভবিষ্যতমুখী রাষ্ট্র হিসেবে বৈশ্বিক অংশীদার হতে চায়।

নতুন বাংলাদেশের ধারণার মূল জায়গাগুলো হতে পারে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতা বৃদ্ধি।

জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্যও হলো, ‘আস্থা পুনর্গঠন, পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা এবং সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’, যা বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক বার্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যে রোহিঙ্গা সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ প্রায় ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। এই সংকট এখন শুধু মানবিক নয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিষয়েও পরিণত হয়েছে।

জাতিসংঘে রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি বার্তা দেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি; রোহিঙ্গা সংকটের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে আরও আন্তর্জাতিক সহায়তা দেওয়া।

জাতিসংঘের অধিবেশনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করবে বাংলাদেশ। এতে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে ড. খলিলুর রহমানের নিজেরও রোহিঙ্গা ইস্যুতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার আগে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও রোহিঙ্গাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে কূটনৈতিক সুবিধা?

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে একজন বাংলাদেশির থাকা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক অর্জন। খলিলুর রহমানের নির্বাচিত হওয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই অবস্থান বাংলাদেশের জন্য কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক ইস্যুতে বাংলাদেশের কণ্ঠ আরও দৃশ্যমান করা, জলবায়ু পরিবর্তন, উন্নয়ন অর্থায়ন ও শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকা তুলে ধরা, রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক মনোযোগ ধরে রাখা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থে নেতৃত্ব দেওয়া।

খলিলুর রহমান জাতিসংঘে তার সভাপতিত্বের জন্য আস্থা পুনর্গঠন, সংলাপ ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। যদিও ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, জাতিসংঘের সভাপতি হিসেবে বিশ্বের সব দেশকেই তিনি সমানভাবে গুরুত্ব দেবেন।

বিজ্ঞাপন

মালিবাগে জোড়া ককটেল বিস্ফোরণ
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:২৮

আরো

অপূর্ব কুমার - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর