Saturday 19 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে সারাদেশে পোনা অবমুক্তকরণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫:৫৮

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

ঢাকা: দেশীয় মাছ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বাড়াতে সরকার সারাদেশে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার লেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। মৎস্য অধিদফতরের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষ্যে কিশোরগঞ্জ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। এর ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশীয় প্রজাতির মাছ টিকিয়ে রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের জনসংখ্যা বাড়লেও বর্তমানে মাছের উল্লেখযোগ্য কোনো ঘাটতি নেই। বিশেষ করে মিঠাপানির মাছের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। চাষির সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়ানোর প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।’

প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মৎস্য খামারিরা কৃষক কার্ডের আওতায় বিভিন্ন সুবিধা পাবেন। তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণসহ বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।’

মাছের খাদ্য ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের বিষয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘নিরাপদ মাছ উৎপাদনে খামারিদের সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি অপচয় ও উৎপাদন ব্যয় কমছে।’

তিনি বলেন, ‘মানসম্মত মাছের খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর নজরদারি করছে। নিম্নমানের ফিড উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ ঠেকাতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। খামারিরা যাতে মানহীন খাদ্য ব্যবহার না করেন এবং ভোক্তারা নিরাপদ মাছ পান, সে লক্ষ্যে তদারকি আরও জোরদার করা হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. মো. শাহিনুর আলম, মৎস্য অধিদফতরের ঢাকা বিভাগের পরিচালক মো. আহসান হাসিব খান, কেন্দ্রীয় মুরগি খামারের পরিচালক জিনাত সুলতানা, চিড়িয়াখানার কিউরেটর মো. হাবিবুর রহমান ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার লেকে মোট ২৫০ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ১০০ কেজি রুই, ৭৫ কেজি কাতলা এবং ৭৫ কেজি কালিবাউশ রয়েছে। এসব পোনামাছের আকার ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার।

মৎস্য অধিদফতর জানায়, লেকে মোট প্রায় ২ হাজার ৫৭৫টি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রুই প্রায় ১ হাজার ১০০টি, কাতলা প্রায় ৬০০টি এবং কালিবাউশ প্রায় ৮৭৫টি।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর