Saturday 19 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

‘প্রাথমিক শিক্ষার সাফল্যের মাপকাঠি হবে শিক্ষার্থীর শেখার ফল’

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:২৯

সংলাপে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

ঢাকা: প্রাথমিক শিক্ষায় কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন বা অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যেই সাফল্য সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে কতটা শিখছে এবং তাদের শেখার ফলে কতটা পরিবর্তন এসেছে—সেটিই প্রাথমিক শিক্ষার সাফল্যের প্রধান মাপকাঠি হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার গুলশানের লেকশোর হোটেলে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ আয়োজিত ‘নাগরিক প্ল্যাটফর্ম সংলাপ: সরকার কতখানি এগোলো? প্রাথমিক শিক্ষার ওপর আলোকপাত’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি) প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো, প্রযুক্তি, প্রশাসনিক সক্ষমতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রকল্পভিত্তিক উন্নয়ন হয়েছে। এসব উদ্যোগ প্রয়োজনীয় হলেও শিক্ষার্থীর শেখার ফলাফলকে কেন্দ্র করে পুরো ব্যবস্থাকে আরও কার্যকরভাবে সাজাতে হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘ভবন নির্মাণ একটি কাজ, আর শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ও শেখা আরেকটি কাজ। দুটোকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীর শেখার ফলাফল নিশ্চিত করাই হতে হবে মূল লক্ষ্য।’

শিক্ষক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি শিক্ষক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষক নিয়োগ, পেশাগত ক্যারিয়ার, মূল্যায়ন, প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন—সব বিষয়কে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার কাজ চলছে।

‘শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে তাদের ক্যারিয়ার ট্রাজেক্টরি কী হবে, মূল্যায়ন কীভাবে হবে, প্রশিক্ষণ কীভাবে হবে—এসব বিষয়কে বাস্তব ও যৌক্তিকভাবে সাজানোর কাজ চলছে,’ বলেন তিনি।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সূচি, এক শিফট চালু এবং শ্রেণিকক্ষে কার্যকর শিখনসময় নিশ্চিত করার বিষয়েও নতুনভাবে ভাবা হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে কারিকুলাম প্রণয়নে শিশুমনোবিজ্ঞানী ও প্রারম্ভিক শিক্ষার বিশেষজ্ঞদের আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দেশের সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পর্যায়ক্রমে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, কিন্ডারগার্টেনসহ দেশের সব ধরনের প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান নিশ্চিত করার বিষয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা তৈরি করে ধাপে ধাপে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘এই দেশের মাটিতে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই থাকুক না কেন, সেখানে শিক্ষার মান নিশ্চিত করার বিষয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে।’

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস মোল্লা, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ, গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান এবং চিকিৎসক তাসনিম জারা।

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান। এ ছাড়া শিক্ষা সংশ্লিষ্ট নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সংলাপে অংশ নেন।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এসএস
বিজ্ঞাপন

অপ্রতিম হত্যা, সন্দেহভাজন ৩ জন আটক
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:৫২

আরো

সম্পর্কিত খবর