রাবি: রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের গেটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও টিটিরা মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা রেলপথ অবরোধসহ কয়েক ঘণ্টা ধরে রাজশাহী রেলস্টেশনে ভাঙচুর চালিয়েছেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পরে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে শিক্ষার্থীরা স্টেশন ছেড়ে ক্যাম্পাসে ফিরে যান।
আহত শিক্ষার্থীর নাম আইয়ুব। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। আহত আইয়ুব রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (রামেক) ভর্তি আছেন।
জানা যায়, রোববার রাতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের গেটে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে রেলওয়ে আনসার সদস্যদের কথা কাটাকাটি হয়। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে টিটি, রেলওয়ে নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে মারধর করে।
আইয়ুবের সহপাঠী নাইমুল ইসলাম অভ্র বলেন, মারধরের পর আইয়ুব মাটিতে পড়ে গিয়ে অচেতন হয়ে যান এবং তার কয়েকবার বমি ও নাক দিয়ে রক্তপাত হয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার মধ্যরাতের দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে শতাধিক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজশাহী রেলস্টেশনে গিয়ে ভাঙচুর শুরু করেন। এই অস্থিরতার জেরে রাতে চলাচলের নির্ধারিত ট্রেন ধূমকেতু এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিল করা হয়। ওই সময় যাত্রী, স্টেশনের কর্মকর্তা–কর্মচারী ও নিরাপত্তায় নিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক যাত্রী ট্রেন বাতিলের খবরে দ্রুত স্টেশন এলাকা ত্যাগ করেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পরে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক স্টেশনে আসেন।

মারধরে মাটিতে পড়ে অচেতন হয়ে যান রাবি শিক্ষার্থী আইয়ুব।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টররা স্টেশনে এসে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যান।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন এলাকায় রেললাইনে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে। এতে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এদিকে আহত শিক্ষার্থীকে দেখতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। রেলের কর্মচারীরা তাকে অত্যন্ত নির্মমভাবে মারধর করেছেন। আমি নিউরোসার্জনের সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আমরা বিষয়টি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘তার চিকিৎসাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি রেলের নিরাপত্তারক্ষী, টিটি ও গার্ডসহ সংশ্লিষ্টদের এমন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে অনুরোধ জানিয়েছি।’
উল্লেখ্য, শিক্ষার্থী পেটানোর ঘটনায় অভিযুক্ত রেলওয়ে কর্মীচারীদের চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে পশ্চিমাঞ্চল রেল কর্তৃপক্ষ।