Monday 21 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের সুযোগ বাড়ল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:০৫ | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:২০

ঢাকা: বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটগুলোর (ওবিইউ) কার্যক্রমে নতুন সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট (ওবিইউ) নিজস্ব দেশীয় ব্যাংকিং ইউনিট (ডিবিইউ), অন্য অনুমোদিত ডিলার (এডি), অন্যান্য ওবিইউ এবং বৈধ স্থানীয় পক্ষের সঙ্গে সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় এবং ক্রস-কারেন্সি সোয়াপ লেনদেন করতে পারবে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বৈধ গ্রাহক লেনদেন, বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থায়নের প্রয়োজন, দায় পরিশোধ, তারল্য ব্যবস্থাপনা, সম্পদ-দায় ব্যবস্থাপনা এবং বৈদেশিক মুদ্রা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ওবিইউগুলো আরও নমনীয়ভাবে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা করতে পারবে।

বিজ্ঞাপন

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি জারি করা অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমের নির্দেশিকার এফ (১) অনুচ্ছেদে ওবিইউগুলোর কার্যক্রমের ওপর কিছু সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বৈধ গ্রাহক লেনদেন সহজ করা, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, সম্পদ ও দায় ব্যবস্থাপনার চর্চা উন্নত করা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ট্রেজারি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে দেশের অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে ওই বিধানের কিছুটা শিথিলতা আনা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ওবিইউগুলো এখন তাদের সংশ্লিষ্ট ডিবিইউ, অন্যান্য এডি, অন্যান্য ওবিইউ এবং বৈধ স্থানীয় পক্ষের সঙ্গে সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা করতে পারবে। পাশাপাশি তারা ক্রস-কারেন্সি সোয়াপ লেনদেনও করতে পারবে।

তবে এসব লেনদেনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। লেনদেনগুলো অবশ্যই অনুমোদিত গ্রাহক লেনদেন, অর্থায়নের প্রয়োজন, নিষ্পত্তির দায়, তারল্য ব্যবস্থাপনা, সম্পদ-দায় ব্যবস্থাপনা অথবা বৈদেশিক মুদ্রা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হতে হবে।

অর্থাৎ শুধু বৈদেশিক মুদ্রার দামের ওঠানামা থেকে মুনাফা করার উদ্দেশ্যে এসব লেনদেন করা যাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, অনুমাননির্ভর বা জল্পনামূলক বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের উদ্দেশ্যে ওবিইউগুলো এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, লেনদেন পরিচালনার সময় ওবিইউগুলোকে প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত বিধিবিধান, প্রুডেনশিয়াল বা সতর্কতামূলক নির্দেশনা, অনুমোদিত অভ্যন্তরীণ নীতিমালা, ডিলিং ও কাউন্টারপার্টি সীমা এবং যথাযথ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নীতি অনুসরণ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ওবিইউগুলোকে বৈদেশিক মুদ্রায় বিচক্ষণ অর্থায়ন কৌশল গ্রহণে উৎসাহিত করেছে। প্রয়োজন ও সম্ভাবনা থাকলে তুলনামূলক কম ব্যয়ের মুদ্রায় অর্থায়নের সুযোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক লেনদেনের নিষ্পত্তি ব্যয়-সাশ্রয়ী করা, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজন অনুযায়ী সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় অথবা ক্রস-কারেন্সি সোয়াপের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, নতুন সুবিধাগুলোর মূল লক্ষ্য হলো অনুমোদিত বাণিজ্য ও অর্থায়ন কার্যক্রমে ওবিইউগুলোর সেবা আরও দক্ষ করা। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থায়নের ব্যবস্থা করা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বাজারচর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন মুদ্রায় ব্যাংকগুলোর ঝুঁকির পরিমাণ ব্যবস্থাপনা করা।

অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সাধারণত দেশের সঙ্গে বৈদেশিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থায়ন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য, অর্থায়নের ব্যয় এবং মুদ্রার বিনিময় হারের ঝুঁকি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

নতুন সিদ্ধান্তের ফলে একটি ওবিইউ তার প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য ইউনিট বা ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ কিংবা প্রয়োজন না থাকলে তা বিক্রি করার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে এক মুদ্রায় অর্থায়ন গ্রহণ করে অন্য মুদ্রায় দায় বা লেনদেন ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হলে ক্রস-কারেন্সি সোয়াপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হবে।
বিশেষ করে বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মুদ্রায় অর্থ পরিশোধ ও গ্রহণের সময় যে মুদ্রা-ঝুঁকি তৈরি হয়, তা ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের লেনদেন কার্যকর হতে পারে। পাশাপাশি ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল ব্যবস্থাপনায়ও নমনীয়তা বাড়বে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এ সুবিধার মাধ্যমে ওবিইউগুলো তাদের বৈদেশিক মুদ্রার অর্থায়ন কাঠামো আরও কার্যকরভাবে সাজাতে পারবে। ফলে অনুমোদিত বাণিজ্য ও অর্থায়ন কার্যক্রমে গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার সেবা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়তে পারে।

নতুন সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সতর্কতা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, অনুমোদিত উদ্দেশ্য ছাড়া এসব লেনদেন করা যাবে না এবং বিশেষ করে জল্পনামূলক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবসার জন্য এ সুবিধা ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।

এ ছাড়া প্রতিটি ওবিইউকে নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নীতিমালা, ডিলিং সীমা ও কাউন্টারপার্টি সীমা অনুসরণ করতে হবে। অর্থাৎ নতুন সুবিধা চালুর পরও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো কার্যকর রাখতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে প্রুডেনশিয়াল নির্দেশনা ও প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রা আইন-বিধি যথাযথভাবে অনুসরণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নতুন সার্কুলারের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি জারি করা অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমের নির্দেশিকার সব বিধান বাতিল বা পরিবর্তন করা হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন সার্কুলারে যেসব বিষয়ে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো ছাড়া নির্দেশিকার অন্যান্য সব বিধান অপরিবর্তিত থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ট্রেজারি ব্যবস্থাপনা চর্চা প্রতিষ্ঠা এবং বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার উদ্দেশ্যেই নতুন এ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারটি জারি করা হয়েছে অফশোর ব্যাংকিং আইন, ২০২৪-এর ১১(৭) ও ২৫(২) ধারা এবং ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট, ১৯৪৭-এর ২০(৩) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংককে দেওয়া ক্ষমতাবলে।

নতুন নির্দেশনার বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে অবহিত করার জন্য দেশের সব অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট এবং তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সারাবাংলা/এসএ/এসআর
বিজ্ঞাপন

হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:২৬

আরো