Monday 21 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রংপুরে ৪ হত্যার রহস্য উদঘাটনে ডিএনএ পরীক্ষা, ২ আসামি ঢাকায়

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৫৫

রংপুর: রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার জনকে হত্যার ঘটনায় দুই গ্রেফতার আসামির সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের সংগ্রহ করা ৩৬ ধরনের আলামতও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের অনুমতি নিয়ে আসামিদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আজ সোমবার সিআইডির দফতরে তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

বিজ্ঞাপন

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় দুই আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর ডিবি পুলিশের ওসি জিনাত আলী কারাগার থেকে দুই আসামিকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। একই সঙ্গে গণপতি চক্রবর্তীর বাসা থেকে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের সংগ্রহ করা ৩৬ ধরনের আলামতও রবিবার রাতে ঢাকার সিআইডির দফতরে পাঠানো হয়েছে।

সূত্র জানায়,সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা অন্তত তিনটি আলামতে পুরুষের ডিএনএ পাওয়ার তথ্য এসেছে। সিগারেটের ফিল্টার, কামড় দেওয়া শসার অংশবিশেষ ও খেজুরের বিচিতে পাওয়া ওই ডিএনএ কার, তা এখনো শনাক্ত করা হয়নি। এসব ডিএনএ নিহত গণপতি চক্রবর্তী এবং দুই আসামি মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের ডিএনএর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।

রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, সিআইডির ফরেনসিক টিম কয়েকটি আলামত থেকে পুরুষের ডিএনএ পাওয়ার কথা জানিয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে আরও আলামত পরীক্ষা করা হতে পারে। আসামিদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে তা সিআইডিতে পাঠানো হবে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ফরেনসিক পরীক্ষায় কোনো আলামতের ডিএনএর সঙ্গে আসামিদের ডিএনএ মিলে গেলে হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যাবে। আর ডিএনএ না মিললে ঘটনাস্থলে অন্য কারও উপস্থিতি ছিল কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পাবে।

গত ২১ আগস্ট দিবাগত রাতে মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, চার জনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। পরে প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেফতার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ওই দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দুই আসামির সম্পৃক্ততা এবং পুলিশের দেওয়া হত্যার কারণ নিয়ে নিহতের স্বজনসহ বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, হত্যার প্রকৃত কারণ কী এবং ঘটনাস্থলে পাওয়া আলামতের সঙ্গে আসামিদের ডিএনএর মিল রয়েছে কি না- এসব বিষয়ও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।

এবার রংপুরের আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে ফরেনসিক পরীক্ষা ও ডিএনএ প্রতিবেদনের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:২৬

আরো

সম্পর্কিত খবর