Monday 21 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রাজশাহী রেলওয়ের জিএম / বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেলওয়ের প্রতিপক্ষ হতে পারে না

রাবি করেসপন্ডেন্ট
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:৫৩

রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী) মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আহম্মদ হোসেন মাসুম

রাবি: রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী) মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আহম্মদ হোসেন মাসুম বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কখনো রেলওয়ের প্রতিপক্ষ হতে পারে না। বরং তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা দরকার। কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা দূরত্ব তৈরি হলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।’

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে রাজশাহী রেলস্টেশনে গত রাতের ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তার নেতৃত্বে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে আহম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, ‘কেন জানি মনে হচ্ছে, রেলওয়ে ভার্সেস স্টুডেন্ট—এমন একটা প্রতিপক্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এটা রাজশাহীবাসী তথা জনগণের জন্য দুঃখজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোনো সময় কারও প্রতিপক্ষ হতে পারে না।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘আমরা মাঝেমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বসব, তাদের সঙ্গে আলোচনা করব। কোনো ধরনের গ্যাপ তৈরি হলে সেটা যেন ঘটনা ঘটার আগে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়। কোনো পুঞ্জীভূত ক্ষোভ যেন শেষ পর্যন্ত জনগণের সম্পদের ওপর না পড়ে।’

গত রাতের ভাঙচুরের ঘটনা প্রসঙ্গে জিএম বলেন, ‘প্রথম দিকে বিষয়টি সমাধান হয়ে গিয়েছিল। পরে একজন শিক্ষার্থী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরবর্তীতে রাজশাহী রেলস্টেশনে রাষ্ট্রীয় সম্পদে যে ভাঙচুর হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত রাতে বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ট্রেন চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রেলওয়ের শ্রমিকদের মধ্যেও কিছু অসন্তোষ ছিল। কর্মচারীদের বরখাস্তের ঘটনায় তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা তারা জানিয়েছিলেন। পরে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয় এবং শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন।’

তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আজ সকাল ১১টার দিকে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে রাজশাহীর বিভিন্ন শীর্ষ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। রেলওয়ের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভাগীয় কমিশনারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আরও একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। রেলওয়ের পক্ষ থেকে আমরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছি।’

ভাঙচুরের ক্ষয়ক্ষতি প্রসঙ্গে জিএম বলেন, ‘আজ আমি সরেজমিনে দেখার জন্য এসেছি, কী ধরনের ভাঙচুর হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। এখন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘গতকাল ভাঙচুরের কারণে একটি ট্রেন যেতে পারেনি। ওই ট্রেনের যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, ট্রেনটিতে ছোট শিশুরাও ছিল। তাদের যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আহম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে যদি কোনো সমস্যা হয়, আমরা বসব, আলোচনা করব। আমার প্রতি যদি কারও ক্ষোভ থাকে, সেই ক্ষোভ আমার ওপর প্রকাশ করতে পারেন। কিন্তু যারা সাধারণ যাত্রী, যারা কোনো কিছু না জেনে গণপরিবহনে চড়তে আসেন, তারা যেন কোনোভাবে ভোগান্তির শিকার না হন। রাষ্ট্রীয় সম্পদেরও যেন কোনো ক্ষতি না হয়।’

চার কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গতকাল আমাদের শ্রমিক সংগঠনও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, কোনো কর্মচারীকে তদন্ত ছাড়া বরখাস্ত করা ঠিক নয়। পরে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, তাদের বিষয়ে তদন্ত হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও রেকর্ডের আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকালের ঘটনায় আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন ও তদন্তের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর