ঢাকা: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বিরোধীদলের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দেশের জনগণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে আদালতের রায়ের পর দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টার পেছনে বিরোধীদলের সঙ্গে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো যোগসাজশ থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে’ এ বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে ইশরাক হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির আদেশ হওয়ার পর থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে দেশে নতুন করে অস্থিতিশীলতার পাঁয়তারা চলছে। একদিকে বিরোধীদল সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক দিচ্ছে, অন্যদিকে দিল্লিতে থাকা শেখ হাসিনা নাশকতার মাধ্যমে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছেন, যা তাদের মধ্যে গোপন আঁতাতের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।’
বক্তব্যে তিনি আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের ফেলে যাওয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং পরিবহন খাতের বিপুল অর্থের উৎস ও ব্যবহারের বিষয়ে বিশেষ তদন্তের দাবি জানান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এসব প্রতিষ্ঠানের অর্থ বর্তমানে রাষ্ট্রবিরোধী সহিংসতা ও নাশকতামূলক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা সরকারের গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’
বিরোধীদলের সাম্প্রতিক ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির প্রতিনিধিরা জনগণের ভোটে সংসদে এলেও তারা আওয়ামী লীগের তাণ্ডবের বিরুদ্ধে মুখ খুলছে না। উলটো তারা শোভাযাত্রা ও লংমার্চের নামে ব্যস্ত থাকলেও ফ্যাসিবাদী নাশকতার বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে।’
বিএনপি ফ্যাসিবাদের পাহারাদার নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, যেকোনো নাশকতার চেষ্টা কঠোর হাতে প্রতিহত করা হবে।