জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, অন্যরা যেখানে শুধু শান্তির কথা বলে, সেখানে তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। একই সঙ্গে ইরানকে বিশ্বের জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে দেশটিকে কখনো পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হতে দেবেন না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘ইতিহাসের সবচেয়ে অসাধারণ দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিপজ্জনক ব্যক্তিদের আর একদিনও বেড়ে উঠতে দিতে রাজি নই আমি। যেখানে অন্যরা শুধু কথা বলেছে, আমি কাজ করে দেখিয়েছি। যেখানে অন্যরা শান্তির কথা বলেছে, আমি শান্তি স্থাপন করেছি। যেখানে অন্যরা হুমকিকে উপেক্ষা করেছে, আমি তাদের মোকাবিলা করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে অন্য দেশগুলো সাহসের কথা বলেছে, আমেরিকা সেটি দেখিয়েছে। যেখানে অন্যরা শক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আমি সেই শক্তি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশে পরিণত করেছি।’
ইরানকে ‘নরকে’ পাঠানোর হুঁশিয়ারি
ভাষণে ইরানের প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, এই মুহূর্তে ইরানের চেয়ে বড় হুমকি আর কেউ হতে পারে না। তার দাবি, ইরান বিশ্বকে বিপন্ন করে বেড়ে উঠছিল। তবে তিনি আর দেশটিকে সেই সুযোগ দেবেন না।
ট্রাম্প বলেন, ইরানকে কখনো পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হতে দেওয়া হবে না।
ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমি কি তাদের নরকে ঠেলে দেব; যেখান থেকে তাদের বেঁচে ফেরার কোনো সুযোগ থাকবে না এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কোনো আশাও অবশিষ্ট থাকবে না?’
তবে আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব বলে মনে করেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, নির্বাচনের পরপরই আমাদের একটি চুক্তি হবে। কারণ চুক্তি না করা তাদের জন্য কোনো কাজের কথা নয়। তারা কেবল মধ্যবর্তী নির্বাচনে আমার ফলাফল কী হয়, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে।’
কিউবা সরকারের পতনের হুমকি
ভাষণে কিউবার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে কিউবা তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও খাদ্যসহ নানা সংকটে পড়েছে। দেশটির সরকার এখন চাপে রয়েছে এবং যেকোনো সময় পতন হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সরকার কিউবার বর্তমান পরিস্থিতির অপরিহার্য পরিবর্তন চাইছে। কিউবা সমাজতান্ত্রিক সরকারের দ্বারা চলছে, যারা বেশ চাপের মধ্যে আছে। কিউবা একদমই একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র। কিউবার এমনভাবে অবনতি ঘটছে, যা আগে কখনো হয়নি এবং এটির পতন ঘটবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সমাজতন্ত্র কখনো যুক্তরাষ্ট্রে আসবে না। কিন্তু কিউবায় স্বাধীনতা যাবে।’
ট্রাম্প যখন এসব বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন জাতিসংঘের অধিবেশন কক্ষে থাকা কিউবার প্রতিনিধিরা প্রতিবাদ হিসেবে সেখান থেকে বেরিয়ে যান।
আইসিসি থেকে বের হওয়ার আহ্বান
এদিকে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) থেকে সব দেশকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। আদালটিকে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এটি একটি ‘দুর্বৃত্ত আদালত’ এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
গাজায় বেসামরিক মানুষকে অভুক্ত ও পানি থেকে বঞ্চিত রাখার অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। এরপর থেকেই আদালটির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে ইউক্রেন থেকে শিশুদের জোরপূর্বক রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল আইসিসি।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আইসিসি নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নিয়ন্ত্রণের বাইরে ও অপরাধী একটি সংস্থা। যেটির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্মান নেই। আমরা কখনো যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বা কাউকে এই আদালতের দ্বারা তদন্ত ও বিচার করতে দেব না। যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী এ আদালতের যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বিচারিক অধিকার নেই।’
অন্যান্য দেশকে আইসিসির সদস্যপদ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা এখনই এই দুর্বৃত্ত আদালত থেকে বেরিয়ে যান।’