Wednesday 23 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ইউপি নির্বাচনে জামানত ও ব্যয়ের সীমা বাড়লো

‎‎সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:৫৩

ঢাকা: ‎ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে জামানত বৃদ্ধি, নির্বাচনি ব্যয়ের নতুন সীমা নির্ধারণ এবং অনিয়ম রোধে কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০২৬-এর সংশোধনী প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

‎বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০২৬-এর সংশোধনীতে এমন বিধান রেখে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

‎সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরিত এই বিধিমালা অনুযায়ী, এখন থেকে চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীর জন্য জামানতের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার টাকা এবং সাধারণ সদস্য পদের জন্য ৫ হাজার টাকা। ব্যাংক ড্রাফট, ট্রেজারি চালান বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুকূলে এই জামানত জমা দিতে হবে।

‎তবে একজন প্রার্থী একাধিক মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও আলাদা করে অতিরিক্ত জামানত দিতে হবে না। এছাড়া প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে সরকারি কোষাগারে জমা হবে। বিজয়ী বা জামানত ফেরত পাওয়ার যোগ্য কোনো প্রার্থী ফলাফল প্রকাশের ছয় মাসের মধ্যে অর্থ তুলে না নিলে তা পরবর্তীতে অফেরতযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

‎সংশোধিত বিধিমালায় প্রার্থীর নির্বাচনি খরচের সর্বোচ্চ সীমাও ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা এবং একজন সদস্য প্রার্থী সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা খরচ করার সুযোগ পাবেন। সম্পূর্ণ নির্বাচনি প্রচারণা পরিচালিত হবে ইউনিয়ন পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০২৬ অনুযায়ী এবং আচরণবিধির পরিপন্থি কোনো খাতে অর্থ ব্যয় করা যাবে না। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের লেনদেন স্বচ্ছ রাখতে একটি তফসিলি ব্যাংকে পৃথক হিসাব খোলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা থেকে সব ধরনের নির্বাচনি খরচ পরিচালিত হবে। কোনো খাতে ২০ হাজার টাকা বা তার বেশি লেনদেন করতে হলে তা বাধ্যতামূলকভাবে চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।

‎নির্বাচনে অনিয়ম ঠেকানো এবং সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে কমিশনের ক্ষমতা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ বা কোনো রেকর্ড থেকে প্রার্থী কিংবা তার এজেন্টের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দেবে কমিশন।

‎অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশন লিখিত আদেশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে। একইভাবে কোনো কেন্দ্র বলপ্রয়োগ, কারসাজি বা ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রভাবিত হলে ইসি সেই কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত কিংবা বাতিল করে নতুন করে ভোটগ্রহণের আদেশ দিতে পারবে। পূর্বে দুই বা ততোধিক প্রার্থী সমান ভোট পেলে লটারির মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণের যে ব্যবস্থা ছিল, তা বাতিল করে এখন সমভোট পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে পুনরায় ভোটগ্রহণের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

‎প্রতিবন্ধী ও সহায়তাপ্রত্যাশী ভোটারদের সুবিধার্থে নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, দৃষ্টি বা শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে নিজের ভোট নিজে দিতে না পারলে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে কমপক্ষে ২১ বছর বয়সি যে কাউকে সহায়তাকারী হিসেবে সাথে নেওয়া যাবে। তবে সেই সহায়তাকারী কোনো প্রার্থী, পোলিং এজেন্ট, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বা নির্বাচন কর্মকর্তা হতে পারবেন না এবং তাকে ভোটারের পছন্দের গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে।

‎অন্যদিকে, নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা, পর্যবেক্ষক বা অনুমোদিত সংবাদকর্মীদের হুমকি দেওয়া, বাধা দেওয়া, দায়িত্বে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের ক্ষতি করা এবং ভোটারকে কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া বা মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধ্য করাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এসব অপরাধে জড়িত ব্যক্তির সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

‎পাশাপাশি নির্বাচন মনিটর করতে কমিশন একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করবে। কোনো প্রার্থী বা এজেন্ট অনুপস্থিত থাকলেও আইনের নিয়ম অনুযায়ী কার্যক্রম স্থগিত হবে না, তবে তাদের অনুপস্থিতির সঠিক কারণ রিটার্নিং কর্মকর্তা কমিশনকে লিখিতভাবে অবহিত করবেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:৫১

আরো

সম্পর্কিত খবর