জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভলকার তুর্ক। প্রধানমন্ত্রীর আবাসস্থলের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক কক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও আইনের শাসন জোরদার, নাগরিক অধিকার এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামোর সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতার বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকট ও মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়ে থাকতে পারে। জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও অবনতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির সহিংসতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও জাতিসংঘের মানবাধিকার ব্যবস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালে জাতিসংঘের বিশেষ পদ্ধতির বিভিন্ন যোগাযোগে বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা, গুম, নির্যাতন এবং অন্তর্বর্তীকালীন ন্যায়বিচারসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।
ভলকার তুর্ক ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের নির্বাহী কার্যালয়ে নীতি সমন্বয়বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। শরণার্থী ও রাষ্ট্রহীন মানুষের আন্তর্জাতিক সুরক্ষাসহ মানবাধিকার বিষয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভলকার তুর্কের এ সাক্ষাৎ বাংলাদেশের মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক সংস্কার ও রোহিঙ্গা সংকটসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।