Monday 28 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সুন্দরবনের ২৫-৩০ শতাংশ সুন্দরী গাছই পরগাছায় আক্রান্ত

মনিরুল ইসলাম
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৩৪

সুন্দরী গাছ। ছবি: সারাবাংলা

বাগেরহাট: সুন্দরবনের প্রাণ ও নামের উৎস সুন্দরী গাছ এখন নতুন সংকটে পড়েছে। আগামরা রোগ বা টপডাইংয়ের পর এবার সুন্দরী গাছে বাড়ছে ক্ষতিকর পরগাছার আক্রমণ। এতে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ার পাশাপাশি সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য ও বননির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন, অতিরিক্ত লবণাক্ততা ও টপডাইং রোগের বিস্তারের মধ্যে সুন্দরবনে নতুন করে দেখা দিয়েছে পরগাছার আক্রমণ। বন বিভাগের তথ্যমতে, পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ সুন্দরী গাছ এ ক্ষতিকর পরজীবীতে আক্রান্ত হয়েছে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, শুরুতে সুন্দরী গাছের শাখা-প্রশাখায় দেখা দিলেও এখন পরগাছা ছড়িয়ে পড়ছে গাছের মূল কাণ্ডেও। এসব পরজীবী গাছের প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও রস শোষণ করে নেওয়ায় আক্রান্ত গাছের পাতা বিবর্ণ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। একপর্যায়ে গাছ দুর্বল হয়ে মারা যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুন্দরী গাছের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ার পেছনে নদী ও খালে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া অন্যতম কারণ হতে পারে। মিষ্টি পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি লবণাক্ততা বাড়ায় সুন্দরী গাছে পরগাছা ও ছত্রাকের আক্রমণ সহজ হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ হাওলাদার বলেন, ‘নদী ও খাল ভরাট হওয়ার কারণে সুন্দরবনে আগামরা রোগ দেখা দিয়েছে। এখন পরগাছার আক্রমণও বাড়ছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সুন্দরবনের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।’ বনজীবীরা আগের মতো সুন্দরী গাছ দেখতে পান না বলেও জানান তিনি।

সুন্দরবন ও বাংলাদেশ উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক শুভ্র শচীন বলেন, ‘সুন্দরী গাছ হারিয়ে গেলে শুধু বনের ক্ষতি হবে না, পুরো উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যবস্থা, জীববৈচিত্র্য এবং লাখ লাখ মানুষের জীবন সম্পূর্ণ বিপন্ন হয়ে পড়বে। যদিও বন বিভাগ বলছে, এটি নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই। তারপরও বিষয়টি নিয়ে গবেষণা ও এর কারণ খুঁজে বের করা দরকার।’

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘লবণাক্ততা বৃদ্ধির সরাসরি ফল হিসেবে সুন্দরী গাছে পরগাছার বিস্তার বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে সুন্দরবনের পুরো বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দ্রুত গবেষণা ও মাঠপর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।’

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ গাছে এই আক্রমণ আমরা শনাক্ত করেছি। পরগাছা দমনে গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে এটি নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।’

পরিবেশ আন্দোলনকর্মীরা বলছেন, সুন্দরী গাছ শুধু একটি বৃক্ষ নয়, এটি সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই দ্রুত নদী-খাল খনন, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং পরগাছা দমনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না গেলে সুন্দরী গাছের ভবিষ্যৎ আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠতে পারে। এর প্রভাব পুরো উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ ও মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর পড়বে।

বিজ্ঞাপন

চৌগাছায় পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:২৬

আরো

মনিরুল ইসলাম - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর