ঢাকা: সরকারের নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের অপকর্ম বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অপতৎপরতা রুখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে আইন তার নিজ গতিতে চলবে। দেশের আইনশৃঙ্খলার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রশাসন এখন আরও বেশি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছে।’
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক ও গত রাতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, ‘সরকারের নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো ধরনের অপকর্মে জড়ালে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সক্রিয় রয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন জানান, বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা এবং জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো সফলতার সাথে উপস্থাপিত হয়েছে। অধিবেশনে প্রদত্ত ভাষণে কৃষি, সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, নারী উন্নয়ন এবং তরুণ প্রজন্মের ক্ষমতায়নসহ সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কল্যাণ ভাবনা ফুটে উঠেছে। একটি স্বনির্ভর ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার দৃপ্ত প্রত্যয় নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নতুন ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে।
বোয়িং উড়োজাহাজ কেনাকাটা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনার জবাবে উপদেষ্টা স্পষ্ট জানান, কোনো বাহ্যিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে পুরোপুরি দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করেই এই চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের পাঁচ দিনের সফর সমাপ্ত করে রোববার ভোর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী উড়োজাহাজটি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। বিশ্বমঞ্চে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, বিভিন্ন বৈশ্বিক ফোরামের কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক নেতাদের সাথে সফল আলোচনার পর শনিবার স্থানীয় সময় রাতে নিউইয়র্ক থেকে দুবাই হয়ে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। এ সময় সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান।