পিঠাপুলির স্বাদ নেওয়ার জন্য এখন আর হাড়কাঁপানো শীতের অপেক্ষায় বসে থাকতে হয় না। বিকেল কিংবা সন্ধ্যার আড্ডায় এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চায়ের সঙ্গে একটু মুচমুচে ট্র্যাডিশনাল কামড় পেতে মন চাইতেই পারে। আর কম পরিশ্রমে ঝটপট পিঠার স্বাদ মেটাতে ‘ভাজা কুলি পিঠা’ বা ‘ভাজা পুলি’র কোনো বিকল্প নেই। ঘরে থাকা সাধারণ কিছু উপকরণ দিয়েই তৈরি করা যায় চালের গুঁড়ার এই চমৎকার পদটি।
আসুন জেনে নেই, বিকেলের নাস্তায় কিংবা হঠাৎ আসা অতিথির মুখে হাসি ফোটাতে কীভাবে বানাবেন এই ঐতিহ্যবাহী পিঠা…
প্রয়োজনীয় উপকরণ
ডো বা কায় তৈরির জন্য…
চালের গুঁড়া: দেড় কাপ
ময়দা: আধা কাপ (পিঠা মচমচে করতে ও ভাঙন রোধে সাহায্য করে)
পানি: ২ কাপ
লবণ: আধা চা চামচ
তেল/ঘি: ১ টেবিল চামচ
পুর তৈরির জন্য…
কোরানো নারিকেল: ২ কাপ
খেজুরে গুড় বা পাটালি: ১ কাপ
এলাচ গুঁড়া: আধা চা চামচ
ঘি: ১ টেবিল চামচ
ভাজার জন্য…
সয়াবিন তেল: পরিমাণমতো (ডুবো তেলে ভাজার জন্য)
প্রস্তুত প্রণালি
১ম ধাপ: নারিকেলের সুস্বাদু পুর তৈরি…
কড়াইয়ে ১ টেবিল চামচ ঘি গরম করে এতে কোরানো নারিকেল ও গুড় দিন।
মাঝারি আঁচে অনবরত নাড়তে থাকুন। গুড় গলে নারিকেলের সঙ্গে মিশে মিশ্রণটি যখন আঠালো হয়ে আসবে, তখন এলাচ গুঁড়া ছড়িয়ে দিন।
নামানোর উপযোগী হলে চুলা থেকে নামিয়ে পুরটি পুরোপুরি ঠান্ডা হতে দিন।
২য় ধাপ: মচমচে নরম ডো বা খামির তৈরি…
একটি পাত্রে ২ কাপ পানি, লবণ ও ১ টেবিল চামচ তেল দিয়ে ফুটিয়ে নিন।
পানি ফুটে উঠলে চালের গুঁড়া ও ময়দা একসঙ্গে ঢেলে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। পাত্রটি ঢাকনা দিয়ে ঢেকে চুলার আঁচ একদম কমিয়ে ৩ মিনিট রেখে দিন।
এরপর চুলা বন্ধ করে নামিয়ে নিন। মিশ্রণটি সহনীয় গরম থাকা অবস্থাতেই হাত দিয়ে চেপে চেপে মথে মসৃণ ডো তৈরি করে নিন।
৩য় ধাপ: পিঠার রূপ দেওয়া…
তৈরি করা ডো থেকে ছোট ছোট লেচি কেটে নিন। সামান্য শুকনা চালের গুঁড়া ছিটিয়ে ছোট ও পাতলা লুচির মতো বেলে নিন।
লুচির ঠিক মাঝখানে পরিমাণমতো নারিকেলের পুর দিন।
এবার ভাজ করে অর্ধচন্দ্রাকৃতি (Half-moon shape) দিন এবং আঙুল দিয়ে চেপে চারপাশের মুখ আটকে দিন।
সৌন্দর্য বাড়াতে এবং তেলের ভেতর পুর যেন বের না হয়ে যায়, সে জন্য আঙুল দিয়ে কিনারা মুড়ে সুন্দর নকশা তৈরি করে দিন।
৪র্থ ধাপ: মচমচে করে ভাজা…
কড়াইয়ে পর্যাপ্ত তেল দিয়ে মাঝারি আঁচে গরম করুন।
তেল গরম হলে আঁচ কিছুটা কমিয়ে একে একে পিঠাগুলো তেলে ছাড়ুন। (বেশি আঁচে ভাজলে বাইরে দ্রুত লাল হলেও ভেতরের খোলস কাঁচা থেকে যাবে)।
কম-মাঝারি আঁচে ধীরে ধীরে উল্টে-পাল্টে ভাজুন। পিঠার দুই পাশ সুন্দর সোনালি ও মচমচে হয়ে এলে তেল ঝরিয়ে তুলে নিন।
পরিবেশন
তেল ঝরিয়ে প্লেটে সাজিয়ে পরিবেশন করুন মচমচে গরম গরম ভাজা কুলি পিঠা! চাইলে ওপর থেকে সামান্য গুড়ের শিরা ছড়িয়েও দিতে পারেন। বিকেলের চায়ের টেবিল আড্ডায় জমিয়ে তুলতে আজই বানিয়ে ফেলুন মিষ্টির দোকানের চেয়েও স্বাদ ও পাঁপড়িতে সেরা এই ভাজা কুলি পিঠা!