বাইকারদের কাছে নিজের মোটরসাইকেল শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এক ভালোবাসার অনুভূতি। প্রিয় বাইকটিকে সচল রাখতে আমরা নিয়মিত ইঞ্জিন অয়েল বদলাই, সময়মতো সার্ভিসিংও করাই। কিন্তু বাইকের আসল গ্ল্যামার বা আউটলুক যেটির ওপর টিকে থাকে, সেই পেইন্ট বা রঙের যত্নেই আমরা সবচেয়ে বেশি অবহেলা করি! অথচ কড়া রোদ, বৃষ্টির পানি কিংবা ভুল উপায়ে ধোয়ামোছার কারণে ধীরে ধীরে বাইকের আসল রঙ ফ্যাকাসে হতে শুরু করে।
আসুন জেনে নেই, দামি বাইকের সৌন্দর্য নতুনের মতো ধরে রাখা এবং রিসেল ভ্যালু বজায় রাখার কিছু সহজ ও কার্যকারী কিছু টিপস…
বডিতে ধুলা-কাদা জমে থাকতে দেবেন না
বাইকের গায়ে ধুলাবালি, কাদা ও ধোঁয়ার আস্তরণ জমে থাকলে তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পেইন্টের প্রাইমারি কোটিং নষ্ট করে ফেলে। তাই সপ্তাহে অন্তত একদিন বাইক ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। ধোয়ার সময় সাধারণ কাপড় কাচার সাবান বা ডিটারজেন্ট একেবারেই ব্যবহার করবেন না; এগুলো রঙের ক্ষতি করে। এর বদলে মাইল্ড শ্যাম্পু বা বিশেষ বাইক ওয়াশ লিকুইড ব্যবহার করুন। ধোয়া শেষে পরিষ্কার ও নরম মাইক্রোফাইবার কাপড়ে বাইকটি পুরোপুরি শুকিয়ে নিন।
প্রখর রোদে পার্কিং এড়িয়ে চলুন
খোলা জায়গায় দীর্ঘ সময় কড়া রোদে বাইক ফেলে রাখলে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি (UV) রশ্মি পেইন্টের আসল উজ্জ্বলতা কেড়ে নেয় এবং রঙ ফ্যাকাসে করে দেয়। তাই বাইক সবসময় ছায়াযুক্ত স্থানে বা গ্যারেজে পার্ক করার চেষ্টা করুন। বাইরে পার্ক করতে হলে মানসম্মত বাইক কভার ব্যবহার করা উচিত।
নিয়মিত পলিশ ও ওয়াক্স ব্যবহার করুন
মাসে অন্তত একবার বাইকের প্লাস্টিক ও মেটাল বডিতে অটো ওয়াক্স বা কার পোলিশ ব্যবহার করুন। এটি রঙের ওপর একটি প্রতিরক্ষামূলক স্তর (Protective Layer) তৈরি করে, যা রোদ, পানি ও ময়লা থেকে পেইন্টকে সুরক্ষা দেয়। তবে অতিরিক্ত পলিশ করলে আবার মূল রঙের ক্ষতি হতে পারে, তাই মাসে ১–২ বারের বেশি ওয়াক্স করা থেকে বিরত থাকুন।
ফুয়েল বা পেট্রোল ছিটে পড়লে দ্রুত মুছুন
তেল পাম্পে ফুয়েল রিফিল করার সময় অনেক সময় ছিটে এসে ট্যাংকের গায়ে পড়ে। পেট্রোল বা ডিজেল পেইন্টের রাসায়নিক ক্ষতি করে রঙ নষ্ট করে দেয়। তাই ফুয়েল ছিটকে পড়ার সাথে সাথেই শুকনো সুতি বা মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে হালকা হাতে মুছে ফেলুন।
বৃষ্টির পানিতে ভিজলে সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার করুন
আজকাল বৃষ্টির পানিতে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর এসিডিক উপাদান থাকে, যা বাইকের রঙের ওপর রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে স্থায়ী ছোপ ছোপ দাগ বা বিবর্ণতা তৈরি করে। তাই বৃষ্টিতে বাইক ভিজলে গ্যারেজে ফিরে যত দ্রুত সম্ভব সাধারণ পরিষ্কার পানি দিয়ে বাইকটি ধুয়ে শুকিয়ে ফেলুন।
ছোটখাটো স্ক্র্যাচ ফেলে রাখবেন না
বাইকের বডিতে যেকোনো ছোট আঁচড় বা স্ক্র্যাচ পড়লে তা দ্রুত টাচ-আপ পেইন্ট বা স্ক্র্যাচ রিমুভার পলিশ দিয়ে ঢেকে দিন। কারণ স্ক্র্যাচের ফাঁক দিয়ে পানি ও বাতাস ঢুকে মেটাল অংশে দ্রুত মরিচা (Rust) ধরে যেতে পারে।
ভালো মানের বাইক কভার বেছে নিন
বৃষ্টি, রোদ ও ধুলাবালি থেকে বাঁচাতে একটি ভালো মানের ওয়াটারপ্রুফ ও ব্রেদেবল (Breathable) বাইক কভার ব্যবহার করুন। তবে বাইক ভেজা অবস্থায় কভার দিয়ে ঢেকে রাখবেন না, এতে কভারের ভেতরে আর্দ্রতা জমে রঙ ও মেটালের ক্ষতি হতে পারে।
প্রিয় বাইকটির ইঞ্জিন যেমন যত্ন দাবি করে, তেমনই এর বাইরের রূপ চকচকে রাখতেও প্রয়োজন সামান্য একটু সচেতনতা। প্রতিবার রাইড শেষে বাইক মোছা আর মাসে অন্তত একবার পলিশ করার মতো সহজ অভ্যাসগুলো আপনার বাইককে বছরের পর বছর শোরুম কন্ডিশনে রাখবে।