Monday 28 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রক্ষীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ কামরুলের বিরুদ্ধে, ট্রাইব্যুনালে আপত্তি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫:৫৯

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম – সংগৃহীত ফাইল ছবি

ঢাকা: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন। সাক্ষ্যগ্রহণের সময় কাঠগড়ায় বসে চেঁচামেচি করে প্রসিকিউশনের প্রশ্নে আপত্তি জানানোর অভিযোগও করেছেন তারা।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কামরুল ইসলাম ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন জুলাইযোদ্ধা মো. হান্নান মিয়া। ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, সাক্ষীর জবানবন্দির একপর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতারা কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে তিনি জানান। এ বক্তব্যের পর কোন কোন নেতা ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা জানতে চান প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ।
প্রসিকিউশনের দাবি, এ প্রশ্নের পর কাঠগড়ায় বসে কামরুল ইসলাম প্রশ্নটিকে অবৈধ বলে আপত্তি জানান এবং চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি বাকবিতণ্ডায় জড়ানোর চেষ্টা করেন বলেও দাবি করেন প্রসিকিউটর।
মিজানুল ইসলাম বলেন, মামলায় আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করাই প্রসিকিউশনের দায়িত্ব। সে জন্য প্রয়োজনীয় প্রশ্ন আইনগতভাবে করার অধিকার প্রসিকিউটরের রয়েছে। কামরুল ইসলামের আপত্তির পরও প্রশ্নটি বৈধ ছিল বলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয় এবং পরে ট্রাইব্যুনাল প্রশ্নটি করার অনুমতি দেন।
তিনি আরও বলেন, আসামির নিজস্ব অবস্থান থাকতে পারে। তবে প্রসিকিউটরের করা প্রশ্নে কোনো অবৈধতা ছিল না।
এদিকে ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কামরুল ইসলাম দুর্ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের ভেতরে এ ঘটনার পর তারা জানতে পেরেছেন যে, কামরুল ইসলাম নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেছেন। এ ধরনের আচরণের ঘটনা মাঝেমধ্যে দেখা যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
একই অভিযোগের বিষয়ে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, এর আগেও কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় তাকে আনা-নেওয়ার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তিনি প্রায়ই দুর্ব্যবহার করেন বলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা প্রসিকিউশনকে জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর