Wednesday 30 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

নির্যাতন মামলায় অরক্ষিত নারীরা, ছেলে শিশু সুরক্ষায় নেই সুস্পষ্ট আইন!

ফারহানা নীলা, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:০৯

নারী ও শিশু নির্যাতন। ছবি কোলাজ: সারাবাংলা

ঢাকা: ২০২৬ সালের ১৯ মে। রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় আট বছরের শিশু রামিসার ক্ষতবিক্ষত খণ্ডিত মরদেহ। যে দুরন্ত শৈশবে হাসিখুশিতে ভেসে বেড়ানোর কথা, সেই বয়সেই তাকে মুখোমুখি হতে হয়েছিল চরম নির্মমতার। ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল অবোধ এই শিশুকে।

প্রায় একই রকম ঘটনা ঘটে ২০২৫ সালের মার্চে মাগুরায়। বেড়াতে গিয়ে বোনের শ্বশুরবাড়িতে শ্বশুরের হাতে নৃশংস নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হয়েছিল আট বছরের আসিয়া, যা পরে তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। শুধু কি তাই? সোনারগাঁয়ে নিজ ঘরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়া গৃহবধূ ন্যায়বিচার পাওয়া তো দূরের কথা, প্রভাবশালী মহলের হুমকিতে নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে হাসপাতালেই আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

বিজ্ঞাপন

অপরিচ্ছন্ন গলি, নির্জন বিলের ধার, কিংবা নিজের শোবার ঘর আজ কোথাও সুরক্ষিত নয় নারী কিংবা শিশু। এমনকি অবোধ ছেলে শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না এই নিষ্ঠুর থাবা থেকে। তাদের করুণ কাহিনীর চিত্রও ফুটে ওঠে বলাৎকারের ভয়াল থাবার মধ্য দিয়ে। এই নৃশংসতা কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সংকট নয়; আমাদের বিচারব্যবস্থা ও মানবিক মূল্যবোধের চরম ধসকে সামনে এনে দাঁড় করিয়ে দেয়। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো- বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনে আইন থাকলেও ছেলে শিশু ‘ধর্ষণ বা বলাৎকারে’ তাদের সুরক্ষায় সেই আইনে নেই কোনো সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা।

পরিসংখ্যানের ভয়াবহতা

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্যানুযায়ী, কেবল এক মাসেই (আগস্ট) ২৫২ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ১১৮ জনই শিশু। এর মধ্যে খুন হয়েছেন ৫৫ জন এবং ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৫৪ জন, যার মধ্যে ৩৬ জনই শিশু।

অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থা ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্র’ (আসক)-এর প্রতিবেদনে দেখা যায়, বছরের প্রথম ছয় মাসেই অন্তত ৩১৯টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, ধর্ষণের পর হত্যার হার ভয়াবহভাবে বেড়েছে; যেখানে ২৫-এর প্রথমার্ধে এই হার ছিল ৪.৯৮ শতাংশ, সেখানে ২৬-এর একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.৪০ শতাংশে। অপরাধীরা প্রমাণ মুছে ফেলা ও আইনি সাজা এড়াতে এখন আরও হিংস্র ও প্রাণঘাতী পথ বেছে নিচ্ছে।

অরক্ষিত ছেলে শিশুরাও

যৌন সহিংসতার শিকার কেবল কন্যাশিশু বা নারীরাই হচ্ছেন না, নীরব এক বিভীষিকার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের বহু ছেলে শিশুও। অনেক শিশু বলাৎকারের শিকার হয়েও নীরব থেকে যাচ্ছে। আবার কোনো কোনো ছেলে শিশু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। সামাজিক লজ্জা, ভয় ও আইনি সংজ্ঞার জটিলতায় অধিকাংশ সময়ই এসব ঘটনা আড়ালে থেকে যায়।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে, ২০২৪ সালে ৩৬টি ছেলে শিশুর বলাৎকারের খবর এসেছে, যার মধ্যে মামলা হয়েছে ২৪টিতে। ইউনিসেফের বৈশ্বিক তথ্য বলে, প্রতি ১১ জন ছেলে শিশুর মধ্যে একজন শৈশবে কোনো না কোনোভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়, যার বড় অংশ ঘটে থাকে বিভিন্ন আবাসিক ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহনাজ হুদা সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের আইনে ছেলে শিশু ধর্ষণের ব্যাপারে কোনো সুস্পষ্ট সংজ্ঞা বা সুরক্ষা স্পষ্টভাবে বলা নেই। আইনের ঐতিহ্যগত ধারণায় ছেলে শিশুরা যে ধর্ষণের শিকার হতে পারে, তা স্বীকার করতেই দ্বিধা দেখা যায়। এ ছাড়া, দণ্ডবিধিতে উল্লিখিত ধর্ষণের সংজ্ঞারও জরুরি সংস্কার প্রয়োজন।’

বছরের পর বছর ঝুলে আছে বিচার

এই নৃশংসতা বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে দীর্ঘসূত্রতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি। ২০১৬ সালে কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতর সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল। এক দশক পেরিয়ে গেলেও আজও তনু হত্যা মামলার চূড়ান্ত বিচার আলোর মুখ দেখেনি। বছরের পর বছর ধরে তদন্তকারী সংস্থা বদল আর আলামত পরীক্ষার বেড়াজালেই আটকে আছে সেই মামলা। যখন একের পর এক চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারে এমন অসীম দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়, তখন অপরাধীদের মনে অপরাধ করার সাহস আরও বেড়ে যায়।

বিচারে দীর্ঘসূত্রতা ও সাজা না হওয়ার সংস্কৃতি

নারী ও শিশু নির্যাতন আইন থাকলেও বাস্তবে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে ক্রমাগত বঞ্চিত হচ্ছেন। আইনি জটিলতা, তদন্তের ধীরগতি এবং প্রভাবশালীদের চাপের মুখে অধিকাংশ মামলা আলোর মুখ দেখে না।

নীলফামারী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. রাশেদুজ্জামান রাশেদ এ বিষয়ে সারাবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে বহু ধর্ষণ মামলা বিচার প্রক্রিয়ার চরম ধীরগতি ও বিচারহীনতার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে মামলা চলা, সাক্ষীর নিরাপত্তাহীনতা এবং আইনি সহায়তার অভাবে ভুক্তভোগীরা সামাজিকভাবে ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এর ওপর স্থানীয় রাজনীতি ও দুর্নীতির প্রভাব বিচারপ্রাপ্তির সুযোগকে আরও ক্ষীণ করে ফেলে।’

অতীতে সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় চূড়ান্ত সাজা পাওয়ার হার মাত্র ৩ শতাংশের কাছাকাছি, আর প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে আসামিরা খালাস পেয়ে যায়। ফলে অপরাধীদের মনে কোনো আইনি ভয় থাকে না।

কাঠামোগত বাধা ও সামাজিক মানসিকতার সংকট

ন্যায়বিচারের পথ শুধু আদালতের চত্বরেই থমকে থাকে না, এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গেও গভীরভাব যুক্ত। সমাজে অপরাধের শিকার নারীকেই উল্টো বিচার ও কটূক্তির মুখে পড়তে হয়।

সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ফউজুল আজিম সারাবাংলাকে বলেন, ‘ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে নারীদের প্রবেশাধিকার এখনো নানা কাঠামোগত বাধার মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা, অর্থনৈতিক নির্ভরতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণে সংবিধান ও আইন থাকার পরও নারীরা সুবিচার পাচ্ছেন না।’

জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের জাতীয় সমন্বয়কারী আহসানা জামান এ্যানী সারাবাংলাকে বলেন, ‘চার মাসের শিশু থেকে শুরু করে একবছরের শিশুকেও ধর্ষণের শিকার হতে হচ্ছে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম রূপ। আইন বাস্তবায়নের শিথিলতা ও সামাজিক মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন না আনলে বিচার নিশ্চিত করা অসম্ভব।’

আইনের ভারসাম্য ও বাস্তবসম্মত সংস্কার প্রয়োজন

আইন পরিবর্তন বা কঠোর সাজা ঘোষণা করলেই কি এই ভয়াবহতা থামবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আবেগের বশে আইন কঠোর করলেই সমস্যার সমাধান হয় না, প্রয়োজন কার্যকর বাস্তবায়ন।

নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সদস্য মাহীন সুলতান এ বিষয়ে সারাবাংলাকে বলেন, “আইনে অধিক শাস্তির বিধান রাখলেই অপরাধ কমে না, বরং অনেক সময় মামলা নিষ্পত্তির হার আরও হ্রাস পায়। আইনের পাশাপাশি আমাদের সংস্কৃতি ও শিক্ষার উন্নয়ন জরুরি। আবেগের বশে এমন কোনো অবাস্তব বিধান রাখা উচিত নয় যা পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়ন করতে বেগ পেতে হয়। আইনি সংজ্ঞায় ‘সম্মতি’ বা ‘কন্সেপ্ট’-এর বিষয়টিকে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক কৃষ্ণা দেবনাথ মনে করেন, বিচারকদের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনই প্রধান শক্তি। সারাবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ধর্ষণের মামলায় নিরপেক্ষ বিচার পরিচালনা অত্যন্ত জরুরি। বিচারকেরা যদি সঠিকভাবে এবং স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন, তবে আইনের বিদ্যমান মৌলিক ধারাগুলো ব্যবহারের মাধ্যমেই সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।’

সরকারি উদ্যোগ ও অঙ্গীকার

সার্বিক পরিস্থিতিতে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে এবং নারী ও শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকেও জিরো টলারেন্স নীতি ও দ্রুত বিচারের বার্তা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এর কার্যকারিতা কতটুকু?

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ১৯ দিনের মধ্যে রায় হয়েছে। চট্টগ্রামে চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের মামলাতেও মাত্র আট কর্মদিবসে বিচারকাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে শুধু আলোচিত কয়েকটি মামলায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়, প্রত্যেক নারী ও শিশুর জন্য দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে সেই নির্দেশনা আছে।’

একই বিষয়ে জানতে চাইলে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, ‘বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। দেশে আইনের অভাব নেই; সমস্যা আইনের প্রয়োগে। আর সমস্যা সামাজিক মানসিকতায়। রাতারাতি সবকিছু বদলানো সম্ভব নয়। মামলা হচ্ছে, বিচার হচ্ছে। কিন্তু এসব ঘটনা বন্ধে সরকার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

উত্তরণে করণীয় যা হতে পারে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু প্রতিক্রিয়া জানিয়ে, কিংবা কয়েকদিনের প্রশাসনিক তৎপরতায় এই সামাজিক মহামারির অবসান ঘটবে না। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য রাষ্ট্রীয়, আইনি ও সামাজিক পর্যায়ে জরুরি ভিত্তিতে কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে-

দ্রুত ও দ্রুতিসম্পন্ন বিচার ট্রাইব্যুনাল: নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলোর দ্রুত তদন্ত ও নির্দিষ্ট সময়সীমার (Fast-track) মধ্যে নিষ্পত্তি বাধ্যতামূলক করতে হবে।

প্রমাণ ও আলামত সুরক্ষায় আধুনিকায়ন: প্রতিটি জেলায় দ্রুত ডিএনএ ল্যাব ও আধুনিক ফরেনসিক ল্যাবের সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে সঠিক প্রমাণের অভাবে অপরাধী পার না পায়।

ভুক্তভোগী ও সাক্ষীর সুরক্ষা আইন: ধর্ষণের ঘটনায় অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবার ও সাক্ষীদের রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া অপরিহার্য।

আইনের সংস্কার ও সার্বজনীন সংজ্ঞা: দণ্ডবিধিতে ধর্ষণের সংজ্ঞায় আধুনিকায়ন আনা এবং ছেলে শিশুদের যৌন নির্যাতন রোধে সুনির্দিষ্ট আইনি ধারা ও শাস্তি সংযুক্ত করা।

নিরাপদ আশ্রয় ও পুনর্বাসন: আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সুপারিশ অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের জন্য সরকারি উদ্যোগে পর্যাপ্ত দীর্ঘমেয়াদি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র (Shelter Home) এবং অর্থনৈতিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।

গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা ও সামাজিক সচেতনতা: গণমাধ্যমকে কেবল সংবাদ পরিবেশন না করে সামাজিক মানসিকতা পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতে হবে। লজ্জা বা কমিউনিটির ভয়ে যেসব ঘটনা চাপা পড়ে যায়, গণমাধ্যম তা সামনে এনে জনসচেতনতা গড়তে সহায়ক হতে পারে।

পারিবারিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষা: পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের ‘গুড টাচ-ব্যাড টাচ’ সম্পর্কে সচেতন করা এবং জেন্ডার সংবেদনশীলতা চর্চা বাড়ানো দরকার।

কোন পথে আমাদের গন্তব্য?

নারী ও শিশুর ওপর সহিংসতা কেবল একটি পরিবার বা কোনো একজন ব্যক্তির অপরাধ নয়; এটি সমগ্র সমাজের নৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর এক গভীর সংকট। প্রতিটি মরদেহের সঙ্গে, প্রতিটি রক্তাক্ত শৈশবের সঙ্গে আমাদের মানবিক অস্তিত্বও আজ প্রশ্নবিদ্ধ। একটি স্বাধীন দেশে প্রতিদিন ক্ষতবিক্ষত শিশুমুখ কিংবা নারীর মরদেহের খবর কি কেবলই এক-একটি সংখ্যার হিসাব হয়ে থাকবে?

সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, যে সমাজে অবোধ শিশুর রক্তে রাজপথ ভিজে যায় এবং তনুর মতো অসংখ্য হত্যার ফাইল আদালতের টেবিলে ধুলো জমে ঢাকা পড়ে, সেখানে আমাদের মানবতা আজ কোন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে? অপরাধীর সাজা না হওয়ার এই সংস্কৃতি যদি আমরা আজই ভাঙতে না পারি, তবে আগামী প্রজন্মের জন্য ঠিক কেমন এক সমাজ রেখে যাচ্ছি আমরা?

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর