খুলনা: বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, জনগণের মেধা ও মানবসম্পদকে গড়ে তোলা।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা বিএল কলেজ ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে কলেজ অডিটোরিয়ামে অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
শিবির সভাপতি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের মেধাবী তরুণদের জন্য শিক্ষা, গবেষণা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে। বাংলাদেশে সে ধরনের পরিকল্পিত উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।’
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে অর্থনীতি ও অন্যান্য বিষয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের রাজনীতিতে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরে রাজনীতিতে আমলাদের বদলে রাজনীতিবিদদের নেতৃত্ব দেওয়ার অন্যতম কারণ দেশটি মেধাবী ও যোগ্য ব্যক্তিদের রাজনীতিতে নিয়ে আসে।’
তিনি বলেন, ‘চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ তাদের বিপুল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা বের হওয়ার পর তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।’
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হলেও তাদের নিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে পর্যাপ্ত পরিকল্পনা নেই। যারা পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়, তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আবারও এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ থাকা উচিত।’
রাষ্ট্রের উন্নয়ন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘জনগণের মনন, মেধা ও দক্ষতা বিকাশের সুযোগ তৈরি করাই একটি রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।’ তার দাবি, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর ভারতের আধিপত্যের প্রভাব রয়েছে এবং এ কারণে দেশের অর্থনীতিকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল রাখা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি রাজ্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে দাবি করেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলে এসব রাজ্য ভারতের বাইরে গিয়ে অন্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যের আগ্রহ দেখাতে পারে। এ কারণেই ‘র’ এর এজেন্টরা বাংলাদেশের রাজনীতি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তার করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বড় আকারের সরকারি বৃত্তি চালুর প্রস্তাব দেন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
তিনি বলেন, ‘সরকার চাইলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য অর্থায়ন করতে পারে। মানবসম্পদ উন্নয়নে বড় বাজেট বরাদ্দ দিয়ে বিদেশে পড়াশোনা শেষে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।’
তিনি বলেন, ‘অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি মানবসম্পদে বিনিয়োগ না করলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।’ এ জন্য শিক্ষার্থীদের অনার্সের দ্বিতীয় বর্ষ থেকেই চাকরির প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের প্রসঙ্গে ছাত্রশিবির সভাপতি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় দলীয় বিবেচনায় নম্বর দেওয়ার মাধ্যমে নিয়োগে বৈষম্য করা হয়েছে। তার দাবি, দলীয় পরিচয় না থাকলে কিংবা মাদরাসা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় কম নম্বর দেওয়া হতো।
কলেজ ছাত্রশিবির সভাপতি মাহী চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী, খুলনা মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব হাসান, সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও বিএল কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস শেখ কামরুল আলম, সাবেক মহানগর সভাপতি মুকাররম বিল্লাহ আনসারী, আজিজুল ইসলাম ফারাজী, মুশাররফ আনসারী, জাহিদুর রহমান নাঈম, আরাফাত হোসেন মিলন, জামায়াত নেতা আল ফিদা হোসেন, বিএল কলেজ ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মনসুর আলম চৌধুরী, সাইদুর রহমান, মহানগর ছাত্রশিবিরের বায়তুলমাল সম্পাদক কামরুল হাসান, প্রচার ও এইচআরডি সম্পাদক এস এম বেলাল হোসেন, কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হযরত আলী, তথ্য সম্পাদক সেলিম বিন আব্দুস সালাম, শিক্ষা ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হাফেজ মহিব্বুল্লাহ প্রমুখ।