কুষ্টিয়া: জেলার দৌলতপুরে মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে সড়কির আঘাতে গোলাম মোস্তফা টেঙ্গুর (৫৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হন। সংঘর্ষের সময় কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সীমান্তসংলগ্ন চড়ইকুড়ি (মরার চর) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত টেঙ্গুর ওই গ্রামের মৃত দৈয়ব মন্ডলের ছেলে।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন- সুমন মিয়া (৫০), হাদু মন্ডল (৭০), রাশিদুল (৩৫), ফটিক (৫৫), বজলু (৫৫), আজাদ মন্ডল (৬০) ও রাজু মন্ডল (৩০) । আহতদের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আজাহার মেম্বারের গ্রুপের সঙ্গে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পটলের গ্রুপের লোকজনের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। নিহত টেঙ্গুর পটলের বড় ভাই।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে ভারত থেকে আসা মাদককে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এর পর গত দুই দিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা, বাগ্বিতণ্ডা ও ধাওয়া-পালটাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় টেঙ্গুর পেটে সড়কির আঘাত লাগে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল বলেন, ‘চড়ইকুড়ি গ্রামের আজাহার মেম্বার ও পটল গ্রুপের মধ্যে গত দুই-তিন দিন ধরে বিরোধ ও উত্তেজনা চলছিল। বৃহস্পতিবার তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে টেঙ্গুর নিহত এবং অন্তত আটজন আহত হয়েছেন।’ ভারত থেকে আসা মাদক বা পাতার বিড়িকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘পূর্বশত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গোলাম মোস্তফা টেঙ্গুর নামে একজন নিহত হয়েছেন। তিনি কৃষিকাজ করতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’