Thursday 01 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর দাবি বাল্যবিয়েকে উৎসাহিত করবে: গার্লস নট ব্রাইডস

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১ অক্টোবর ২০২৬ ২২:৫২

গার্লস নট ব্রাইডস বাংলাদেশ

ঢাকা: মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর করার দাবিতে পঞ্চগড় জেলা মুসলিম নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার সমিতির সাম্প্রতিক মানববন্ধনের তীব্র প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় প্ল্যাটফর্ম ‘গার্লস নট ব্রাইডস বাংলাদেশ’।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশে বাল্যবিয়ের প্রবণতা যখন অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এই সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে কাজ করছে, তখন বিয়ের বয়স কমানোর এমন অযৌক্তিক দাবি মূলত বাল্যবিয়েকে উৎসাহিত করার একটি অপকৌশল মাত্র।

বিজ্ঞাপন

তারা বলেন, সরকারি নিবন্ধনপ্রাপ্ত কাজী বা নিকাহ রেজিস্ট্রাররা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিয়ে নিবন্ধনের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তাই বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের আইন সঠিকভাবে মেনে চলা এবং তা বাস্তবায়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখাই তাদের থেকে প্রত্যাশিত।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিকাহ রেজিস্ট্রারদের মতো দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিয়ের বয়স কমানোর দাবি তোলা তাদের পেশাগত দায়িত্বের সঙ্গে স্পষ্টত সাংঘর্ষিক এবং তা রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারের পরিপন্থি।

এতে আরও বলা হয়, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ অনুযায়ী বাংলাদেশে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং ছেলেদের জন্য ২১ বছর নির্ধারণ করা রয়েছে। এ আইনে বাল্যবিয়ে আয়োজন, সম্পাদনা, সহায়তা কিংবা নিবন্ধনের সঙ্গে যুক্ত যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কাজী ও নিকাহ রেজিস্ট্রারদের জনস্বার্থ, প্রচলিত আইন এবং শিশু অধিকারের প্রতি আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার জোর আহ্বান জানানো হয়।

এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত উদ্যোগ প্রতিরোধে সরকারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে বলিষ্ঠ অবস্থান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, সেভ দ্য চিলড্রেন, ব্র্যাক, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট-সহ এ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ৩১টি বিশিষ্ট সহযোগী সংগঠনের যৌথ অবস্থানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।

সারাবাংলা/এফএন/এমএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর