Friday 02 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

আসনসংকটে হলের বাইরে থাকছেন গোবিপ্রবি’র ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী

রাসেল হোসেন, গোবিপ্রবি করেসপন্ডেন্ট
২ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১৩

গোবিপ্রবি: প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য আবাসিক হলে আসন রয়েছে ২ হাজার ১৬০টি। অর্থাৎ গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীই আবাসিক সুবিধার বাইরে। তাঁদের বড় একটি অংশকে ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকায় মেস ও ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও পড়াশোনার পরিবেশ নিয়েও ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ৯টি অনুষদের অধীনে ৩৩টি বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। প্রতিবছর নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও সে অনুপাতে আবাসিক হলের আসন বাড়েনি। ফলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবাসনসংকটও তীব্র হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে পাঁচটি আবাসিক হল রয়েছে। এর মধ্যে বিজয় দিবস হলে ৪০০টি, স্বাধীনতা দিবস হলে ৩৬২টি, শহীদ তিতুমীর হলে ৬০৮টি, বনলতা হলে ৩৪০টি এবং অপরাজিতা হলে ৪৫০টি আসন রয়েছে। সব মিলিয়ে আসন ২ হাজার ১৬০টি।

শিক্ষার্থীরা জানান, হলে আসন না পেয়ে তাদের অনেককেই ক্যাম্পাসের আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় মেস বা বাসা ভাড়া নিতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের চাহিদাকে কেন্দ্র করে এসব এলাকায় মেস ব্যবসাও গড়ে উঠেছে। বিকল্প কম থাকায় তুলনামূলক বেশি ভাড়া, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশসহ বিভিন্ন শর্ত মেনে অনেককে থাকতে হচ্ছে। এতে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের অনাবাসিক শিক্ষার্থী লাবিবা তাসফিয়া বলেন, মেয়েদের জন্য আবাসিক হলে আসন ৮০০টিরও কম, যা শিক্ষার্থীর তুলনায় অপ্রতুল। এর ওপর একটি ছাত্রী হল এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। ফলে অনেক ছাত্রীকে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে হচ্ছে।

লাবিবা বলেন, ‘বাসাভাড়া, খাবার ও যাতায়াতসহ পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ থাকে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রম শেষে বাসায় ফেরার সময় পরিবারও দুশ্চিন্তায় থাকে। তাই নতুন হল নির্মাণের পাশাপাশি অসম্পূর্ণ হলটি দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি।’

অর্থনীতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের অনাবাসিক শিক্ষার্থী রেদোয়ান ইসলাম সিয়াম বলেন, হলে আসন না পাওয়ায় তাদের মেস বা ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে। এতে বাসাভাড়া, খাবার ও যাতায়াতের অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ থাকে।

রেদোয়ান বলেন, ‘বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অনুষ্ঠান বা কার্যক্রম শেষে বাসায় ফেরার সময় নিরাপত্তাহীনতা কাজ করে। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়া সম্ভব হয় না। আবাসন কোনো বিলাসিতা নয়; এটি শিক্ষার্থীর নিরাপদ ও স্বাভাবিক শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

আবাসনসংকটের কারণে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদেরও অনেক সময় হলে জায়গা দেওয়া সম্ভব হয় না বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা দিবস হলের প্রভোস্ট সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর তুলনায় পাঁচটি আবাসিক হলে আসনসংখ্যা অনেক কম। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আমাদের কাছে এলেও আসন না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না। বিষয়গুলো আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছি। ছেলেদের জন্য আরও তিনটি এবং মেয়েদের জন্য দুটি হল নির্মাণ করা গেলে আবাসনসংকট অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সোহেল হাসান বলেন, বর্তমানে মাত্র ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন। আবাসনসংকট সমাধানে একটি একাডেমিক ভবন, অডিটরিয়াম, একটি ছেলেদের হল ও একটি মেয়েদের হল নির্মাণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। ইউজিসি থেকেও এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে আবাসনসংকট অনেকটা কমে আসবে।

তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় ধাপের ২৫৩ কোটি টাকার প্রকল্পটি ২০২৪ সাল থেকে ঝুলে আছে। ওই প্রকল্পের আওতায় একটি ছাত্রী হলের ওপরের তলার কাজ এখনো বাকি। কাজটি শেষ হলে সেখানে আরও প্রায় ১০০ ছাত্রী আবাসিক সুবিধা পাবেন। এসব কাজ ২০২৭ সালের মধ্যে শেষ করে নতুন প্রকল্পের কাজ শুরু করার আশা করছেন তারা।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর