ঢাকা: রাজধানীর উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ডেঙ্গু সচেতনতামূলক গণক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের উদ্যোগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। ক্যাম্পে স্থানীয় বাসিন্দাদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গুর লক্ষণ, প্রতিরোধ ও আক্রান্ত হলে করণীয় বিষয়ে লিফলেট বিতরণ করা হয়। এছাড়া রক্ত ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা, ওজন ও রক্তচাপ পরিমাপসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে বক্তব্যে সেলিম উদ্দিন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জনসচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে বাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, এসি ও ফ্রিজে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে। পাশাপাশি মশারি ব্যবহার এবং বাড়ি, বাগান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজের মতো করে ওষুধ না খাওয়ার আহ্বান জানিয়ে সেলিম উদ্দিন বলেন, জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে যথাযথ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, শুধু ডেঙ্গু বেড়ে যাওয়ার সময় সচেতন হলে হবে না; সারা বছরই পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্রত্যেকে নিজের বাসাবাড়ি, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখলে রোগবালাই প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।
রাজধানীর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা নিয়েও কথা বলেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে চিকিৎসক ও ওষুধের ঘাটতির পাশাপাশি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনারও অভাব রয়েছে। মানুষের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সেলিম উদ্দিন বলেন, ডেঙ্গু সচেতনতা কার্যক্রম শুধু একদিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। নগরের বিভিন্ন পার্ক ও এলাকায় এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উত্তরা মডেল থানা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল, ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মাওলানা মাহফুজুর রহমান, থানা নায়েবে আমির হারুনুর রশিদ তারেক, সেক্রেটারি বদিউজ্জামান বকুলসহ স্থানীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও স্বেচ্ছাসেবকরা।
ক্যাম্পে পাঁচজন চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা স্থানীয়দের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দেন।