Friday 02 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

স্কুল ফিডিংয়ের দুধ চুরির ঘটনায় ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

ডিস্ট্রিক্ট করসপন্ডেন্ট
২ অক্টোবর ২০২৬ ১৬:৪৭ | আপডেট: ২ অক্টোবর ২০২৬ ১৬:৪৮

বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা নাদিম মাহমুদ।

পিরোজপুর: জেলার নেছারাবাদে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ চুরির ঘটনায় ‌‘শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণ’ দেখিয়ে ছাত্রদল নেতা নাদিম মাহমুদকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক খালিদ হাসান।

এর আগে, গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘চুরি হওয়া স্কুল ফিডিংয়ের ২৭ প্যাকেট দুধ ফেরত’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে বিষয়টি জেলা ছাত্রদলের নজরে এলে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে নাদিম মাহমুদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান শাহীন সই করা সিদ্ধান্তে তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ ছাত্রদলের সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

পরে জেলা ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক খালিদ হাসান সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে বহিষ্কৃত নাদিম মাহমুদের সঙ্গে সাংগঠনিক কোনো ধরনের সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নাদিম মাহমুদ স্বরূপকাঠী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ১ নম্বর বলদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক ছিলেন।

এর আগে নেছারাবাদ উপজেলার ১৪৮ নম্বর দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ৩০ প্যাকেট দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে নাদিম মাহমুদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিন্না খালে নৌকাবাইচ উপলক্ষ্যে বিদ্যালয়ে অতিথিদের আপ্যায়নে শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকার সময় লাইব্রেরিতে রাখা দুধ নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে গত ৩০ সেপ্টেম্বর নাদিম মাহমুদ ২৭ প্যাকেট দুধ কিনে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ফেরত দেন। বাকি তিন প্যাকেট দুধ খেয়ে ফেলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

অভিযোগের বিষয়ে নাদিম মাহমুদ বলেন, তিনি ও তার দুই বন্ধু বিদ্যালয় থেকে ৩০ প্যাকেট দুধ নিয়ে গিয়েছিলেন। এসব দুধ শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ছিল, তা তারা জানতেন না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে ২৭ প্যাকেট দুধ কিনে বিদ্যালয়ে ফেরত দিয়েছেন।

এদিকে, ঘটনার কয়েক দিন পর উপজেলা শিক্ষা অফিসকে বিষয়টি অবহিত করায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ৩ কর্মদিবসের মধ্যে তাকে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

নেছারাবাদ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মঈনুল ইসলাম বলেন, ঘটনার কয়েকদিন পার হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তাদের জানায়নি। এ কারণে প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।