নাটোর: নাটোরের সিংড়ার চলনবিলে বক দিয়ে বক শিকারের অপরাধে তিন পাখি শিকারির জেল ও জরিমানা হয়েছে। এসময় ৫০ টি পাখি উদ্ধার করে অবমুক্ত করা হয়েছে।
শনিবার (২ অক্টোবর) ভোরে উপজেলা প্রশাসন এবং রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ এ অভিযান পরিচালনা করে।
সিংড়ার চলনবিলের আগমুরশন, বামিহাল, কাকিয়ান, পূর্বভেংড়ী বিলের বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযানটি চালায় চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সদস্যরা।
অভিযানে পোষা বক দিয়ে বক শিকারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি কিল্লা ঘরের দশটি ফাঁদ ধ্বংস করা হয়।
পরে আটক ওই তিন শিকারির একদিনের জেল ও দুই হাজার টাকা করে জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সিংড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশাত আনজুম। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, পূর্বভেংড়ী গ্রামের আব্দুর রশিদ (৫৫), মকছেদ আলী (৫০) ও আবু হানিফ (৪০)।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ, যুগ্ম সম্পাদক হাসিবুল হাসান শিমুল, প্রভাষক নাহমাদুল হক প্রমূখ।
এ সময় বিলের পাখি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এলাকায় সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন পরিবেশ কর্মীরা।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জানান, কয়েকদিন ধরে পাখি শিকারের পরপরই হত্যা করে বস্তা ভর্তি বক পাখি পৌর শহরের পারসিংড়া বেদে পল্লীতে গোপনে বিক্রয় করছিল একটি চক্র। সেই সূত্র ধরেই চলনবিলের বিভিন্ন পয়েন্টে ধান খেতে বিশেষভাবে তৈরি কিল্লা ঘরের ফাঁদে পাখি শিকারের খবর পেয়ে প্রশাসনের নির্দেশে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়।
তিনি আরও জানান, ২০১২ সাল থেকে সংগঠনের সদস্যরা চলনবিলের পাখি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাকডাকা ভোরে দুর্গম এলাকায় ছুটে যান এবং বিল পাড়ের মানুষদের সচেতন করছেন।