ঢাকা: রাজধানীর পান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিনের গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ শুরু হয়েছে। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ বা সিজিএস আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের অর্থনৈতিক ভূরাজনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নীতি নির্ধারণ, জলবায়ু নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে দিনব্যাপী একাধিক সমান্তরাল বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশের রাজনীতিক, কূটনীতিক, অর্থনীতিবিদ ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সম্মেলনকে ঘিরে ঢাকার কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে হোটেল সোনারগাঁওয়ের প্রধান হলরুমে বিদেশি আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশগ্রহণে একই সঙ্গে পাঁচটি বিশেষ রুদ্ধদ্বার বৈঠকের মাধ্যমে দিনের মূল কর্মসূচি সূচনা হয়। এর আগে তিন অক্টোবর শনিবার সকালে তিন দিনব্যাপী মর্যাদাপূর্ণ এই বৈশ্বিক আসরের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স, ফিউচার্স: নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন এ ওয়ার্ল্ড রিরিটেন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংলাপটি পাঁচ অক্টোবর সোমবার পর্যন্ত টানা চলবে বলে আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
দিনের দ্বিতীয় পর্বে সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে সকাল ১১টায় কৌশলগত ভূরাজনীতি নিয়ে বক্তব্য পেশ করেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর। এরপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার কূটনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন এবং বেলা ১২টায় স্থানীয় সরকারে নারীর অংশগ্রহণ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ও জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি বিশেষ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম সুশাসন নিয়ে বক্তব্য দেন এবং আড়াইটার সেশনে রাষ্ট্রযন্ত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ নিয়ে আলোকপাত করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
বিকেলের সেশনে সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচের বিশেষ বক্তৃতার পর প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বর্তমান সময়ে সংবাদমাধ্যমের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন। দিনের সমাপ্তি ঘটে মালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে আয়োজিত গণতন্ত্র বিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী ফোরামের মাধ্যমে। এবারের সম্মেলনে বঙ্গোপসাগর উপকূলীয় দেশগুলোর সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব, বহুপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার পররাষ্ট্রনীতি গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।