Sunday 04 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সীতাকুণ্ডে বিশেষ কর্মসূচির পর এক সপ্তাহে ডেঙ্গুতে মৃত্যু নেই: ডিসি জাহিদ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৪ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৫৪ | আপডেট: ৪ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৫৫

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাত দিনের বিশেষ কর্মসূচি নেওয়ার পর গত সপ্তাহে সেখানে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। একই সঙ্গে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যাও কমছে। তবে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতায় জোর দিতে হবে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন, বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক র‍্যালি শেষে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

র‌্যালিটি সৈন্যার টেক থেকে শুরু হয়ে খোয়াজনগর ও চর পাথরঘাটা হয়ে পুরাতন ব্রিজঘাট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে চর পাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় লার্ভিসাইড ও ফগার মেশিনের মাধ্যমে স্প্রে ছিটিয়ে সপ্তাহব্যাপী মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি উপজেলার ১০টি ডেঙ্গু হটস্পটে পরিচালিত কার্যক্রমও তদারক করেন।

বিজ্ঞাপন

কর্মসূচিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, সহকারী কমিশনার (ভূমি, কর্ণফুলি) এস এম আমিরুল মোস্তফা, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সৌনম বড়ুয়াসহ উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, গত সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলাগুলোর মধ্যে সীতাকুণ্ড ও কর্ণফুলীতে সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত সপ্তাহে সীতাকুণ্ডে সাত দিনের বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম গ্রহণের পর গত সপ্তাহে সীতাকুণ্ডে আর কোনো মৃত্যু ঘটেনি। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে সেখানে সংক্রমণের হার আরও কমবে বলে আশা করছি।’

হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তির সংখ্যাও কমছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরীর হাসপাতালগুলোতে গত দুই দিনে যথাক্রমে ৯২ ও ৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু চিকিৎসা দিয়ে আমরা ডেঙ্গু মোকাবিলা করতে পারব না। আমাদের ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করতে হবে। এ জন্য বাড়িঘর, দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে পানি জমতে দেওয়া যাবে না এবং ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আপনি আপনার ময়লা নির্দিষ্ট জায়গায় না ফেলে রাস্তায় ফেললে তো হবে না। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

জেলা প্রশাসক জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১২ সেপ্টেম্বর জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্নতার আওতায় আনা হয়। এরপর বিভিন্ন উপজেলায় পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকতে হবে। যারা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, তারা আমাদেরই ভাই বা নিকটাত্মীয়। আমরা চাই না এভাবে আর কারও প্রাণ যাক।’

চিকিৎসার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালসহ উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক শয্যা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ডেঙ্গু পরীক্ষার কিটও সরবরাহ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর