Wednesday 07 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

গার্মেন্টসের চেয়েও বড় সম্ভাবনা কুটির ও হস্তশিল্পে শিল্পে: গয়েশ্বর

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৪:৫২

বিসিক আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী ‘শরৎমেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় -ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা:  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, গার্মেন্টস খাতের চেয়েও কুটির ও হস্তশিল্পে বেশি আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে ।
তিনি বলেন, সঠিক প্রশিক্ষণ, প্রচার ও বিপণন সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ঘরে বসেই মানুষ সম্মানজনকভাবে কুটির শিল্পের মাধ্যমে পোশাক খাতের চেয়েও বেশি আয় করতে পারে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী ‘শরৎমেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশের কারিগরদের জন্মগত মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তৈরি দেশীয় পণ্যের মান ও সৌন্দর্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তবে গার্মেন্টসসহ অন্যান্য চাকরির তুলনায় কুটির শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষকে আরও স্বাবলম্বী করতে হলে তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, শুধু পণ্য তৈরি করলেই হবে না, সেই পণ্য মানুষের কাছে তুলে ধরতে কার্যকর প্রচারও প্রয়োজন। প্রচার ও বিপণন সুবিধা বাড়ানো গেলে কুটির শিল্পের বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে এবং এ খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।

ঘরের কাজের পাশাপাশি কুটির ও হস্তশিল্পের মাধ্যমে নারীদের আয় ও স্বাবলম্বী হওয়ার বড় সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, প্রচার ও বিপণন সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ঘরে বসেই সম্মানজনক আয় করা সম্ভব।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সমাজের অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া অনেক নারী ঘরে বসেই কুটির শিল্পের বিভিন্ন কাজ করে আয় করছেন। এর মাধ্যমে তারা নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি পরিবারেও অর্থনৈতিক অবদান রাখছেন। এতে পরিবার ও সমাজে তাদের সম্মানজনক অবস্থান তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের কারিগরদের জন্মগত মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তৈরি দেশীয় পণ্যের মান ও সৌন্দর্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এই দক্ষতাকে কাজে লাগাতে কারিগর ও উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

গয়েশ্বর বলেন, উৎপাদিত পণ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কার্যকর প্রচার ও বিপণন ব্যবস্থা প্রয়োজন। বাজার ও বিপণন সুবিধা বাড়ানো গেলে কুটির শিল্পের পরিধি আরও বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

কুটির শিল্পে আয়ের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, সঠিক প্রশিক্ষণ, প্রচার ও বিপণন সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে গার্মেন্টস খাতের চেয়েও কুটির শিল্প থেকে বেশি আয় করা সম্ভব।

দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পণ্যের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, জামালপুরের নকশিকাঁথা, শীতলপাটি, মাটির তৈজসপত্র ও টেরাকোটার মতো পণ্যের এখনো চাহিদা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের মধ্যেও মানুষ প্রকৃতি ও ঐতিহ্যনির্ভর পণ্যের দিকে ফিরছে। ফলে এসব পণ্যের বাজার আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিশ্বব্যাপী পরিবেশ দূষণের বড় একটি অংশ উন্নত বিশ্বের কারণে হলেও উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোর ওপর নানা ধরনের শর্ত আরোপ করা হচ্ছে। পরিবেশ দূষণের দায় ও দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাস্তব অবস্থান বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

প্রশাসনিক জটিলতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমলের আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে সরকারি কর্মকর্তাদের জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও উদ্যোক্তাদের কাজ সহজ করতে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘ফাইলের চাকা ঘোরাতে হবে।’ ফাইল আটকে না রেখে দ্রুত কাজ নিষ্পত্তি করা হলে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাবেন এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।

বিসিক ভবনের নিচতলায় আয়োজিত শরৎমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুস নাসের খান ও অতিরিক্ত সচিব নুরুজ্জামান।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর