Thursday 08 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

শিক্ষকদের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিতে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিক: মাহদী আমিন

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৬:১১ | আপডেট: ৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৮:৩৯

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: মর্যাদা, অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থা সময়োপযোগী ও কার্যকর করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

দেশকে সমৃদ্ধ, উন্নত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক সংস্কার ও দেশের উন্নয়নের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে শিক্ষকদের রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষকরাই জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম প্রধান কারিগর।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি ।

বিজ্ঞাপন

মাহদী আমিন বলেন, আজকের ফ্যাসিবাদমুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পেছনে শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘ ত্যাগ ও সংগ্রাম রয়েছে। অনেকেই পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত, কাঙ্ক্ষিত পদ পাননি, কারাবরণ করেছেন এবং অসংখ্য মামলার শিকার হয়েছেন। দেশের গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাদের এই ত্যাগ গণতন্ত্রকামী মানুষ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক, গণশিক্ষা, মাধ্যমিক, কারিগরি, মাদরাসা ও উচ্চশিক্ষার প্রতিটি স্তরে বিএনপি সরকার গুরুত্বপূর্ণ ও বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আমলে শিক্ষকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিভিন্ন স্তরে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, জাতীয়করণ, এমপিও ব্যবস্থা চালু, এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষকদের কল্যাণে কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ড গঠন করা হয়।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে শিক্ষক-কর্মচারীদের যে কোনো যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবির প্রতি সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিক থাকবে। সরকারের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব প্রতিটি যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর করা হবে।

তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে লুটপাট ও দুর্বৃত্তায়নের কারণে অনেক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক তাদের প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকার ব্যবস্থা করেছে। এর মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রাপ্য অর্থ নিশ্চিত করা হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আগে ১২ জন শিক্ষককে মূল্যায়ন করা হলেও এবার তা বাড়িয়ে ১০০ জনে উন্নীত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে সম্মানিত করা হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের মর্যাদা আরও সুসংহত করতে প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো, বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি এবং ‘টিচার-ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন’ জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রস্তাব ও দাবিগুলো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন এবং শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুকিম উদ্দীন মাহমুদসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শিক্ষক-কর্মচারী নেতারা।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর