ঢাকাই চলচ্চিত্রের সোনালী যুগের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রবীণ মুখ, মিষ্টি হাসির অভিনেত্রী নাসিমা খানের প্রয়াণে পুরো চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গত রবিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। তবে তার শেষ বিদায় ও দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও কিছুদিন সময় লাগছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তার একমাত্র ছেলে দেশে ফেরার পর আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এই শ্রদ্ধেয়ে অভিনেত্রীর দাফন সম্পন্ন হবে।
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সনি রহমান গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, বিদেশ থেকে ছেলের দেশে ফেরার অপেক্ষার কারণে বর্তমানে নাসিমা খানের মরদেহ রাজধানীর একটি হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে। সন্তান পৌঁছানোর পরই পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার দাফন সম্পন্ন করা হবে।গত রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার লুবানা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ১৯৫৯ সালে ঐতিহাসিক ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ সিনেমার মাধ্যমে রূপালি পর্দায় পা রেখেছিলেন এই গুণী শিল্পী। এরপর ১৯৬১ সালে ‘যে নদী মরু পথে’ চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করে দারুণ দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি বাংলা ও উর্দু ভাষার বহু ব্যবসাসফল ও ক্লাসিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়ে গেছেন। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আজীবন সদস্য হিসেবেও তিনি সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
নাসিমা খানের বর্ণিল অভিনয় জীবনজুড়ে রয়েছে বহু স্মরণীয় ও কালজয়ী কাজ। ষাটের দশক থেকে শুরু করে তার অভিনীত ছবিগুলো বাংলা চলচ্চিত্রের আদি ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝন’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’ ও ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’।
চলচ্চিত্রে তার এই দীর্ঘ অবদান ও নিবেদন ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। নাসিমা খানের মৃত্যুতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিসহ দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।