নীলফামারী: আশ্বিনের শেষদিকে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিতে নীলফামারীতে আমন চাষিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে এই বৃষ্টিই দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে আগাম আলু ও শীতকালীন সবজি চাষিদের। টানা বৃষ্টি হলে জমিতে পানি জমে সদ্য রোপণ করা আলুর বীজ পচে যাওয়ার পাশাপাশি শাকসবজিরও ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এতে আমন ধানের জমিতে পানির সংকট কিছুটা কমেছে। তবে এই বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হলে বা পুনরায় টানা বৃষ্টি শুরু হলে ক্ষতির মুখে পড়বেন কৃষকরা।
জেলা কৃষি বিভাগ ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় আমন ধানের জমিতে পানির সংকট দেখা দিয়েছিল। এতে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও সম্ভাব্য ফলন নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন কৃষকেরা। গত বৃহস্পতিবারের বৃষ্টিতে সেই সংকট অনেকটাই কমেছে।
অন্যদিকে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে আগাম আলু ও শীতকালীন সবজির আবাদ। অনেক কৃষক এরইমধ্যে জমিতে আলুর বীজ রোপণ করেছেন। এ অবস্থায় বৃষ্টির পানি দীর্ঘ সময় জমে থাকলে বীজ পচে যাওয়ার পাশাপাশি সবজির ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
আগাম আলুচাষি হামিদার রহমান বলেন, ‘এবার ৮ বিঘা জমিতে আগাম আলু রোপণ করব। এর মধ্যে ৩ বিঘা জমিতে রোপণ করেছি। এমন বৃষ্টি যদি টানা দুই-তিন দিন হয়, তাহলে সমস্যা হবে। অল্প সময়ের মধ্যে বৃষ্টি থেমে গেলে তেমন ক্ষতি হবে না। কিন্তু বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হলে বীজ আলু পচে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নীলফামারী জেলায় ১ লাখ ১৩ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২৫ হেক্টর বেশি জমিতে আমন আবাদ হয়েছে।
সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম বলেন, ‘সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃষ্টি দ্রুত কমে যেতে পারে, আবার তিন থেকে চার দিন স্থায়ী হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। দুপুর ১২টা পর্যন্ত নীলফামারীতে ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।’
নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক হুমায়রা মন্ডল বলেন, ‘আশ্বিনের এই বৃষ্টি আমন ধানের জন্য উপকারী। তবে আগাম আলু ও শাকসবজির জন্য এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তাতে চাষাবাদ দুই-তিন দিন পিছিয়ে যেতে পারে। রাতে বা পরদিনও বৃষ্টি হলে ইতোমধ্যে আলুর বীজ রোপণ করা কৃষকদের বীজ ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’