তালাবদ্ধ ফটক টপকে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করায় আবার আটক হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস ও জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে তাদের আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
আশুতোষ রাঙ্কা এ নিয়ে নিজের এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি, সৌরভ ও অজিঙ্ক শিন্ডে যন্তর মন্তরের তালাবদ্ধ ফটক টপকে ভেতরে ঢুকছেন। সেখানে ঢুকে জাতীয় পতাকা মেলে ধরেন তারা। পরে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাদের বাধা দেন ও আটক করেন।
গত রোববার (১১ অক্টোবর) দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে আর কাউকে বিক্ষোভ সমাবেশ বা ধরনায় বসতে দেওয়া হবে না। যন্তর মন্তরের পরিবর্তে বিক্ষোভ-সমাবেশের জন্য অন্য তিনটি জায়গা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো, পুরান দিল্লির রামলীলা ময়দান, উত্তর দিল্লির বুরারির মাঠ ও পূর্ব দিল্লির সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট বা ‘সিবিডি’ ময়দান।
দাস ও রাঙ্কা আরও অন্তত ১০ জনের একটি দলের সঙ্গে সেখানে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। পরে পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের সবাইকে আটক করা হয়েছে।
ভিডিওতে আরও দেখা গেছে, রাঙ্কা ও অন্যরা ‘ভারত মাতা কি জয়’ এবং ‘জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা দো’ (জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করুন)-এমন স্লোগান দিচ্ছেন।
পরবর্তীতে সৌরভ দাস ‘এক্স’ এ জানান যে, তাদের জাফরপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আটকের ঠিক পরেই সৌরভ দাস তার ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও শেয়ার করে বলেন, ‘আমরা যন্তর মন্তর দখল করেছি।’ ওই ভিডিওতে আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ যন্তর মন্তর থেকেই নিশ্চিত করা হবে।’
অন্য একটি পোস্টে সৌরভ দাস বলেন, ‘যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভ-স্থল হিসেবে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত বাতিলের ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে আমরা জায়গাটি পুনরুদ্ধার করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের উদ্দেশে এটি একটি বার্তা—জনগণের যন্তর মন্তর থেকে হাত সরাও! জ্ঞানুর সময় শেষ হয়ে গেছে।’
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ‘এক্স’-এ লিখেছেন, ‘আজ ভোরে তিরঙ্গা হাতে কিছু আরশোলা চুপিচুপি যন্তর মন্তরে ঢুকে পড়েছিল, পরে দিল্লি পুলিশ তাদের আটক করে।’
যন্তর মন্তরে প্রবেশের দায়ে সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং অজিনক্য শিন্ডেকে আটক করার পর দীপকে তার ‘এক্স’ পোস্টে বলেন, ‘আপনারা এই প্রতিরোধ আন্দোলনকে বাতিল বা অবৈধ ঘোষণা করতে পারবেন না।’