Tuesday 13 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

জীবননাশের শঙ্কা, কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি বিচারকাজে অংশ নেবেন জিয়াউল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৬:১৫ | আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৮:৫৪

সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান – সংগৃহীত ফাইল ছবি

ঢাকা: জীবননাশের আশঙ্কা ও নিরাপত্তাঝুঁকির কথা বিবেচনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিচারকাজ কারাগারে রেখেই ভার্চুয়ালি পরিচালনার অনুমতি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এর ফলে এখন থেকে কারাগারে বসেই মামলার কার্যক্রমে অংশ নেবেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মামলার ১৫তম সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের জেরা হওয়ার কথা রয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকা জিয়াউল আহসান-এর উপস্থিতিতে এ জেরা করবেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।

প্রসিকিউটর তামিম জানান, এর আগে প্রতিবারই জিয়াউল আহসান-কে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হতো। গত ৮ অক্টোবর তার জীবননাশের আশঙ্কার কথা জানিয়ে আইনজীবী নাজনীন নাহার আবেদন করেন। আবেদনে অন্য আসামিদের সঙ্গে প্রিজনভ্যানে করে তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা-নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

তবে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে কারাগারে রেখেই ভার্চুয়ালি বিচারকাজে অংশ নেওয়ার আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

গাজী এমএইচ তামিম বলেন, আসামিপক্ষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষ একমত হলেও অন্য আসামিদের সঙ্গে প্রিজনভ্যানে আনা-নেওয়ার আবেদনে আপত্তি জানানো হয়। কারণ, নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি অন্য আসামিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। ট্রাইব্যুনাল ও কারাগারে অডিও-ভিডিও সংযোগের ব্যবস্থা থাকায় সেখান থেকেই বিচারকাজে অংশ নেওয়া সম্ভব।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত গুম ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিয়াউল আহসান-এর বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম ১৫তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ৮ অক্টোবর তার জবানবন্দি শেষ হয়। মঙ্গলবার আসামিপক্ষের আইনজীবীদের তাকে জেরা করার কথা রয়েছে।

জবানবন্দিতে রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রকাশ্যে এলে সেগুলোকে বৈধতা দেওয়ার জন্য লোকদেখানো প্রশাসনিক তদন্ত করা হতো। প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে নিয়ন্ত্রিত তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ গোপন করা এবং মিথ্যা বা ভুল ময়নাতদন্ত ও পুলিশ প্রতিবেদন তৈরিতে কর্মকর্তাদের বাধ্য করা হতো বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর মামলার ১৩তম সাক্ষী র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাব্বির রহমানের জেরা শেষ হয়। তিনি মামলার সর্বশেষ চাক্ষুষ সাক্ষী ছিলেন। একই দিন কামরুল ইসলামও জবানবন্দি দেন।

মামলায় জিয়াউল আহসান-এর বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে সড়কের পাশে জিয়াউল আহসানের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী খালসংলগ্ন বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল ও মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগে একই সময়ে তথাকথিত বনদস্যু দমনের নামে বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলাসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় মাসুদসহ ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসান-এর বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল-১। একই দিন তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে ২৩ ডিসেম্বর তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর