Wednesday 14 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

নাকফুল ও কাপড়ের সূত্র ধরে হত্যা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন, গ্রেফতার ২

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৪ অক্টোবর ২০২৬ ২২:৪৫

বাগেরহাট: মরদেহের নাকে থাকা একটি নাকফুল আর ঘরে থাকা অন্য সালোয়ারের থান কাপড়ের মিল— এই দুটি সূত্রের ওপর ভর করেই প্রায় দুই মাস পর আলোড়ন সৃষ্টিকারী ‘ক্লুলেস’ হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ।

বুধবার ১৪ (অক্টোবর) দুপুরে মোংলা থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ভিকটিমের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেফতার এবং নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধারের বিষয়টি জানানো হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করে মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. রেফাতুল ইসলাম জানান, মোংলা থানায় দায়েরকৃত একটি নিখোঁজ জিডির সূত্র ধরে দীর্ঘ তদন্ত শেষে আমরা ভিকটিমের পরিচয় নিশ্চিত হতে পেরেছি এবং ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত দুই আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি।

বিজ্ঞাপন

প্রেস ব্রিফিংকালে মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান-সহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এএসপি মো. রেফাতুল ইসলাম জানান, গত ১৪ আগস্ট মোংলা ফেরিঘাট এলাকা থেকে নিখোঁজ হন বাগেরহাটের মোংলা থানার মালগাজী গ্রামের বাসিন্দা আসমা বেগম (৩৯)। তিনি আ. জবেদ আলী ও করিমন বিবির কন্যা। ২০ আগস্ট খুলনার বটিয়াঘাটা থানাধীন কাজীবাছা নদী থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে রূপসা নৌ পুলিশ ফাঁড়ি।

পরবর্তীতে নৌ পুলিশের বেতার বার্তায় প্রচারিত ছবি দেখে মোংলা থানা পুলিশ নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

পরিবার সদস্যরা জানান, নদী থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিহিত সালোয়ারটির রঙ ও নকশার সাথে নিহতের বাসায় রাখা আরেকটি সালোয়ারের হুবহু মিল রয়েছে— যা একই থান কাপড় থেকে তৈরি করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি মরদেহের নাকে থাকা নাকফুলটি দেখে পরিবার নিশ্চিত করে যে নদী থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিখোঁজ আসমা বেগমেরই।

ভিকটিমের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মোংলা থানা পুলিশ আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে দুই প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার আসামিরা হলেন— দাকোবের লাউডোরের ইকরামুল শেখ (৪০) ও ঝালকাঠির নলছিটির মো. মীর আলী (৪৮)।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ১ নম্বর আসামি ইকরামুল শেখ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের পারিপার্শ্বিকতা ও মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়া গেছে। এছাড়া আসামির কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

একটি সাধারণ নিখোঁজ জিডি থেকে শুরু করে দীর্ঘ ৬০ দিনের জটিল তদন্তে ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের পর গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা শেষে বুধবার বিকেলে বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর