রংপুর: সার ব্যবসায়ীদের গুদামে মজুতের পাহাড়, তবুও সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার পাচ্ছেন না কৃষকরা। এমওপি, ডিএপি ও টিএসপির তীব্র সংকটে দিশেহারা রংপুরের আমন চাষিরা। কৃষকদের অভিযোগ, অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দ্বিগুণ দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগের দাবি, সংকট নেই, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চলমান।
শস্য ভান্ডার খ্যাত রংপুরে চলতি আমন মৌসুমে টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি সারের তীব্র সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। অথচ সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নগরীর শাপলা চত্বর থেকে স্টেশন রোড পর্যন্ত সার ব্যবসায়ীদের দোকান ও গোডাউনে বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি সারের মজুত রয়েছে।
সার ডিলার ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, সারের কোনও সংকট নেই। তাহলে কৃষকরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার পাচ্ছে না কেন-এমন প্রশ্নেv কোনও সদুত্তর মিলছে না তাদের কাছ থেকে।
সার ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন বলেন, ‘ইউরিয়া সারের কোনও সংকট নেই, তবে এমওপি ও ডিএপি সারের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম মিলেছে। তারপরও প্রচুর সার গোডাউনে আছে। একই কথা বলেন লালবাগ এলাকার সার ব্যবসায়ী সোলায়মান আলী। তিনি বলেন, সারের তেমন সংকট নেই, তবে গ্রামের হাটবাজারগুলোতে অসাধু খুচরা ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন।’
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রংপুরে এক লাখ ৬৬ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৪৮ হাজার ৮৬১ মেট্রিক টন।
কৃষকদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা সার সংকট নেই বলছে-এটা তাদের বানানো কথা। তারাই কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন। শুধু তাই নয়, ‘সার নেই’- এমন অজুহাত দেখিয়ে কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে চড়া দামে সার কিনতে হচ্ছে তাদের। ভরা মৌসুমে জমিতে পর্যাপ্ত সার না দিলে ফলন কমে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
রংপুর নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের দর্শনা এলাকার কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, তার ৮ একর জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছে। এখন জমিতে টিএসপি ও পটাশ বা এমওপি ও ডিএপি সার দেওয়া খুবই জরুরি। কিন্তু দোকানগুলোতে গেলেও সার মিলছে না। ডিলাররা বলছেন, তারা পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পাওয়ায় কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ করতে পারছেন না।
একই কথা বললেন নাজির দিগর গ্রামের কৃষক এমদাদুল হক। তার অভিযোগ, ভরা মৌসুমে জমিতে পর্যাপ্ত টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি সার দেওয়া না গেলে আমন ধানের ফলন কম হবে। কৃষকদের আরও অভিযোগ, ডিলারদের কাছে সার না পেয়ে খোলা বাজার থেকে দ্বিগুণ দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এতে চাষাবাদের খরচও বেড়ে যাচ্ছে।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক মাহমুদা খাতুন জানান, রংপুরে আমন মৌসুমে সারের কোনও সংকট নেই। যেসব অসাধু ব্যবসায়ী চড়া দামে সার বিক্রি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ চলমান আছে।