Thursday 15 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

চোরাচালানে নতুন রুট: ভায়াগ্রা ও নিষিদ্ধ ক্রিমসহ বিপুল পরিমাণ পণ্য আটক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৫:০৬ | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৭:৫৩

ঢাকা: চোরাচালানের নতুন রুট ও কৌশলের সন্ধান পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর (সিআইআইডি)। গত ১৩ ও ১৪ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কমলাপুর রেলওয়ে ফরেন পোস্ট অফিসে পৃথক অভিযানে ভায়াগ্রা ও ইনসুলিনসহ বিপুল পরিমাণ ওষুধ, আমদানি-নিষিদ্ধ ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম, বিদেশি সিগারেট, স্বর্ণালঙ্কার, ল্যাপটপ, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং মদ জাতীয় পানীয় উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ১৩ লাখ ৪০ হাজার ১০০ টাকা।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নতুন চোরাচালান কৌশল ও রুটের বিষয়ে কাস্টমস গোয়েন্দারা জানান, সাম্প্রতিক এসব অভিযানে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ভায়াগ্রার মতো সংবেদনশীল ওষুধ আনার পাশাপাশি একটি নতুন রুট ও কৌশলের সন্ধান মিলেছে। আকাশপথে অবৈধ পণ্যগুলো দেশে পৌঁছানোর পর তা বিমানবন্দরের ডাক বাছাই কেন্দ্র থেকে রেলপথে কমলাপুরের আরএমএস সেন্টারের মাধ্যমে চট্টগ্রাম জিপিওতে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। এই ঘটনা বিমান, ডাক ও রেল পরিবহন খাতে চোরাচালান চক্রের নতুন সিন্ডিকেটের উপস্থিতি স্পষ্ট করেছে এবং কাস্টমস নজরদারির পরিধি বাড়ানোর তাগিদ তৈরি করেছে।

জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের (ET680) যাত্রী জাহাঙ্গীরের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ভায়াগ্রা ও ইনসুলিনসহ প্রায় ৫৫ কেজি ওষুধ আটক করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভায়াগ্রার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং ইনসুলিনের মতো তাপমাত্রা-সংবেদনশীল ওষুধের কোল্ড চেইন না মেনে পরিবহন জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করে। এরপর গত ১৩ অক্টোবর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ফরেন পোস্ট অফিসে অভিযান চালিয়ে ৭৭৮৭ পিস আমদানি-নিষিদ্ধ ‘গৌরি ক্রিম’ এবং ৩১টি ব্যবহৃত ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। আকাশপথে দেশে আসার পর পণ্যগুলো বিমানবন্দরের ডাক বাছাই কেন্দ্র ও কমলাপুরের RMS Centre হয়ে চট্টগ্রাম জিপিওতে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। এই ঘটনায় বিমান, ডাক ও রেল পরিবহন শৃঙ্খলে সমন্বিত কাস্টমস নজরদারির প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।

আরও জানা যায়, যাত্রীদের লাগেজ তল্লাশি করে গত ১৩ অক্টোবর বিভিন্ন ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগেজ থেকে ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন (Samsung Galaxy S25 FE-সহ), ২৮৮ কার্টন সিগারেট, ৪৬ কেজি নিষিদ্ধ ক্রিম এবং ১৭ লিটার মদ আটক করা হয়। আর গত ১৪ অক্টোবর থাই এয়ারওয়েজ, সালাম এয়ার ও অন্যান্য ফ্লাইটের যাত্রী এবং পরিত্যক্ত কার্টন থেকে উদ্ধার করা হয় যৌথভাবে মোট ২৪৩ কার্টন সিগারেট, ৩৮ কেজি কসমেটিকস ও ১৮.১৮ কেজি গৌরি ক্রিম।

এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, এই ধারাবাহিক সফল অভিযান কেবল শুল্ক ও রাজস্ব সুরক্ষাই করেনি, বরং ওষুধের অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রেখেছে। জনস্বাস্থ্য ও রাজস্ব সুরক্ষায় বিমানবন্দর, ডাক বাছাই কেন্দ্র এবং রেলপথে কাস্টমস গোয়েন্দাদের এ ধরনের সমন্বিত নজরদারি ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর