Thursday 15 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ১ শিক্ষক ও ২৭ শিক্ষার্থী নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৫:০৭ | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৭:৫৩

পেশোয়ারে ঘটনার স্থলে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। ছবি: ডন।

পাকিস্তানের পেশোয়ারের আফ্রিদি আবাদ এলাকায় একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে পড়ে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২৭ জন শিক্ষার্থী এবং একজন শিক্ষক রয়েছেন।

দেশটির সংবাদপত্র ডন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মোহাম্মদ আসিম ২৮ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৯ জন।

জিও নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেশোয়ারের ডেপুটি কমিশনার আফাক ওয়াজির জানান, উদ্ধারকাজ শেষ হয়েছে।

এর আগে এলআরএইচ মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

পেশোয়ারের ডেপুটি কমিশনার আফাক ওয়াজির ডনকে জানান, আল খায়ের স্কুলের ছাদ ধসে পড়ে শিক্ষার্থীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছিল।

বিজ্ঞাপন

তার কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনার সময় শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ছিল।

উদ্ধারকারী দলের এক কর্মকর্তা এএফপি-কে জানিয়েছেন, ওপরের তলার ছাদ ধসে পড়ার পর তা শিক্ষার্থীদের ওপর আছড়ে পড়ে, যার ফলে ভবনটির দুটি তলা দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পেশোয়ার ক্যাপিটাল সিটি পুলিশ অফিসার (সিসিপিও) ড. মিয়ান সাঈদ আহমেদ জানিয়েছেন, ভবনটির কাঠামো দুর্বল ছিল।

এএফপি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি বলেছেন, ‘দুর্বল কাঠামোর ওপর অতিরিক্ত ভারি ছাদ নির্মাণের কারণেই এই ধসের ঘটনা ঘটেছে।’

এদিকে, খাইবার পাখতুনখাওয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি স্কুলের ছাদ ধসে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই ধসের কারণ খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ‘নির্দোষ শিশুদের মূল্যবান প্রাণহানি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এক ​​ট্র্যাজেডি।’

তিনি আহত শিশুদের দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাদের জন্য সর্বোত্তম চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া আরেকটি বিবৃতিতে খাইবার পাখতুনখাওয়ার গভর্নর জানান, তিনি পুরো প্রদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কাঠামোগত নিরাপত্তা নিরীক্ষা (স্ট্রাকচারাল সেফটি অডিট) চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করা যায় এবং প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা নিশ্চিত হয়।

কুন্দি লিখেছেন, ‘আমরা আমাদের শিশুদের নিরাপত্তাকে কোনোভাবেই ঝুঁকির মুখে পড়তে দিতে পারি না।’

পাকিস্তানে ভবন বা ছাদ ধসে পড়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এর প্রধান কারণ হলো দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণের ব্যবহার।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর