Thursday 15 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ের খাবারে অসুস্থ শতাধিক শিক্ষার্থী, ব্যবস্থায় ধীরগতি

মো. আশরাফুল ইসলাম, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৬:৫১

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে গত ছয় মাসে অন্তত ছয়টি বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে। নিম্নমানের পাউরুটি ও পচা ডিম খেয়ে শিক্ষার্থীরা বমি, পেটব্যথা ও অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রাম উন্নয়ন কর্ম-গাকের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে একের পর এক এমন ঘটনা ঘটছে। প্রতিটি ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। তদন্তে নিম্নমানের ও পচা খাবার সরবরাহের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ গত ১ অক্টোবর শিবগঞ্জ উপজেলার লহলামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে ১২ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়। এর আগে, গত ৬ সেপ্টেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নয়াগোলা পুলিশ লাইনস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই ধরনের ঘটনায় ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়।

এ ছাড়া চলতি বছরের এপ্রিলে সদর উপজেলার শংকরবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খাবার খেয়ে ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়। গত ১৭ জুন মহারাজপুর ইউনিয়নের সালিম ডোলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই ঘটনায় ১৫ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি হয়। শিবগঞ্জের চাতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও এমন ঘটনা ঘটেছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, দুর্গন্ধযুক্ত ডিম ও নিম্নমানের পাউরুটি খেয়েই শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বারবার এমন ঘটনা ঘটলেও খাবারের মান নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। তারা শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং খাবারের মান নিয়মিত পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন।

অভিভাবক হাসান আলী, শফিকুল ইসলাম ও মাইনুল খান বলেন, স্কুল ফিডিং সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। কিন্তু খাবারের মান ঠিক না থাকলে এই উদ্যোগই শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তাই এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার জানান, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পেটব্যথা, বমি ও খিঁচুনির মতো উপসর্গ দেখা গেছে। খাবার গ্রহণের পর একই ধরনের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় খাদ্যে বিষক্রিয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে শিশুদের অসুস্থতার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষার গুরুত্ব রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। পরীক্ষায় বিষক্রিয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তে পাওয়া তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। খাবারের মান নিশ্চিত করতে প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে অভিভাবকদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি খাবার যাচাই-বাছাই করে শিক্ষার্থীদের গ্রহণের বিষয়টি তদারকি করবে।

জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গি জানান, তদন্তে নিম্নমানের খাবার সরবরাহের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে খাবারের মান তদারকি বাড়ানো হয়েছে।

জানা গেছে, নিম্নমানের পাউরুটি ও ডিম সরবরাহের অভিযোগে খাবার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। এর আগে নিম্নমানের পাউরুটি সরবরাহের দায়ে দুই দফায় ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটিকে মোট ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। চলতি বছরের এপ্রিলে শংকরবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘটনায় গাককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। একই সঙ্গে সদর উপজেলার বিদ্যালয়গুলোতে খাবার সরবরাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। আরেক ঘটনায় ১৫ দিনের জন্য বনরুটি সরবরাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

জেলার চারটি উপজেলার ৬১৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিদিন স্কুল ফিডিংয়ের খাবার সরবরাহ করে গ্রাম উন্নয়ন কর্ম-গাক। এত বিপুলসংখ্যক শিশুর খাবারের মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকেরা।

বিজ্ঞাপন

সীমান্তে এ এক নীরব আত্মত্যাগ
১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৮:২৪

আরো

সম্পর্কিত খবর