ব্যাংকক: বাংলাদেশের জন্য নতুন ঋণ প্রস্তাবের বাকি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে আগামী সপ্তাহ থেকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে আলোচনা শুরু হচ্ছে। ঋণ প্রস্তাবের যেসব বিষয়ে এখনো সমঝোতা বাকি রয়েছে, সেগুলোর নিষ্পত্তির মাধ্যমে চুক্তি চূড়ান্ত করাই হবে আলোচনার মূল লক্ষ্য।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ব্যাংককে আইএমএফের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আইএমএফের সঙ্গে ঋণের বিষয়ে নীতিগতভাবে সবকিছু ঠিক আছে। এখন চুক্তিটি কীভাবে চূড়ান্ত করা যায়, তা নিয়ে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদল আলোচনা করবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া ঋণ প্রস্তাবের চূড়ান্ত পর্যালোচনার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।’
আগামী ২৩ অক্টোবর আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের কথা রয়েছে। ফলে ব্যাংককের বৈঠকের পর ঢাকায় অনুষ্ঠেয় আলোচনা ঋণ প্রস্তাবের বাকি বিষয়গুলো নিষ্পত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় আশাবাদী সরকার
বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীরা দেশটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তার ভাষ্য, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থা বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে আগ্রহী।
আগামী বছর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, ‘উন্নয়ন সহযোগীরাও বিষয়টিকে একইভাবে দেখছে।’
তবে নতুন ঋণ প্রস্তাবের মোট অর্থের পরিমাণ, ঋণের মেয়াদ, সুদের হার এবং কী কী শর্তে চুক্তি চূড়ান্ত হবে, সে বিষয়ে বৈঠক শেষে বিস্তারিত কিছু জানাননি অর্থমন্ত্রী। এসব বিষয়ে দুই পক্ষের আলোচনার ফলাফলের ওপর চুক্তির চূড়ান্ত রূপ নির্ভর করবে।
বাংলাদেশের জন্য নতুন ঋণ সহায়তার আলোচনা এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন অর্থনীতি স্থিতিশীল করা, রাজস্ব আয় বাড়ানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক খাতে সংস্কার এগিয়ে নেওয়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। ঋণ চুক্তি চূড়ান্ত হলে অর্থায়নের পাশাপাশি এসব নীতিগত বিষয়েও আইএমএফের সঙ্গে সরকারের আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে পাঁচ বছরের উন্নয়ন কাঠামো
এদিকে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন সহযোগিতার কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য একটি কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক (সিপিএফ) সইয়ের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।
অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরের জন্য সরকার একটি উন্নয়ন কাঠামো তৈরি করেছে। এ কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার ও সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নির্ধারণে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সিপিএফের মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরে বাংলাদেশের কোন কোন খাতে উন্নয়ন সহযোগিতা প্রয়োজন, কোন খাতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং বিশ্বব্যাংকের সহায়তা কীভাবে কাজে লাগানো হবে, সেসব বিষয়ে একটি পরিকল্পিত কাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে এ উদ্যোগ এবং আইএমএফের ঋণ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্থায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে দুই প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার ধরন এক নয়। আইএমএফের ঋণ সাধারণত সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতিগত সংস্কারের সঙ্গে সম্পর্কিত; অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন অগ্রাধিকার ও প্রকল্পভিত্তিক সহযোগিতার দিকনির্দেশনা দেয়।
ব্যাংককে ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে এসব বিষয়ে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।