ঢাকা: বিশ্বের অন্যান্য দেশের প্রধান শহরগুলোর মতো বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণের ভয়াবহ সংকট চলছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের সবশেষ সূচক অনুযায়ী রাজধানী ঢাকার বাতাস বর্তমানে মানসিকভাবে উদ্বেগজনক ও অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে। বৈশ্বিক বায়ুদূষণের শীর্ষ তালিকার শীর্ষে থাকা পাকিস্তানের লাহোর ও দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিঙ্গাপুরের মতো ঢাকাও আশঙ্কাজনক অবস্থানে নেমে এসেছে। আইকিউএয়ারের তৈরি করা প্রতিমুহূর্তের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স সূচকে আন্তর্জাতিক পরিমাপে শহরের সার্বিক বাতাসের গুণমান প্রকাশ করে নাগরিকদের জন্য চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির ব্যাপারে নিয়মিত সতর্কবার্তা দিয়ে আসছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে আইকিউএয়ারের প্রকাশিত বায়ুদূষণ সূচক অনুযায়ী ঢাকার বাতাসের স্কোর রেকর্ড করা হয় ১৭৮। আন্তর্জাতিক পরিমাপক স্কেলে এই আন্তর্জাতিক স্কোরটিকে অস্বাস্থ্যকর ক্যাটাগরিতে ফেলা হয় এবং প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বায়ুদূষণে সারা বিশ্বের শীর্ষ শহরগুলোর ভেতরে ঢাকার অবস্থান ষষ্ঠ স্থানে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে একই দিনে একই সময় ২১১ স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছিল পাকিস্তানের রাজধানী শহর লাহোর। তাছাড়া ২০২ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে সিঙ্গাপুর, ২০০ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে ভারতের রাজধানী দিল্লি, ১৯৮ স্কোর নিয়ে চতুর্থ স্থানে ভারতের অর্থনৈতিক রাজধানী মুম্বাই এবং ১৮১ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে অবস্থান করছে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর।
আন্তর্জাতিক বায়ুমান পরিমাপ ব্যবস্থা অনুযায়ী শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত স্কোরকে ভালো বাতাসের মান হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। অন্যদিকে ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত স্কোরকে মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয় এবং ১০১ থেকে ১৫০ পর্যন্ত মানকে সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য ঝুঁকি হিসেবে গণ্য করা হয়। বাতাসের মান সূচক ১৫১ থেকে ২০০ এর ঘরে পৌঁছালে তা সরাসরি অস্বাস্থ্যকর এবং ২০১ থেকে ৩০০ এর ঘরে পৌঁছালে আশঙ্কাজনক বা খুবই অস্বাস্থ্যকর বলে সংজ্ঞায়িত করা হয়। এছাড়া বাতাসে ক্ষতিকর উপাদানের কারণে স্কোর ৩০০ পেরিয়ে গেলে নাগরিক জীবন চরম দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় পতিত হয় বলে বায়ু পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা প্রকাশ করে থাকে।
বাংলাদেশে প্রধানত পাঁচটি বায়ুদূষক উপাদান যেমন সূক্ষ্ম বস্তুকণা পিএম২.৫ ও পিএম১০, নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড এবং ওজোনের মাত্রা হিসাব করে জাতীয় বায়ুর গুণমান প্রকাশ করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের পূর্বে প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদনে ঢাকার অনিয়ন্ত্রিত বায়ুদূষণের প্রধান তিনটি মৌলিক কারণ হিসেবে মেগা নির্মাণ প্রকল্পের ধুলাবালি, ইটভাটার ধোঁয়া এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের নির্গত কালো ধোঁয়াকে দায়ী করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে বায়ুদূষণের ব্যাপক প্রভাবে বিশ্বব্যাপী স্ট্রোক, হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যানসার এবং ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজের মতো দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটছে, যা বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী ও প্রবীণদের মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে।