Sunday 18 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

আইয়ুব বাচ্চুর সংগীত জীবনের শুরুর দিকের অজানা গল্প

এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক
১৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৫:০৬

ঝংকার তোলা গিটারের জাদুকরি সুর আর দরদি কণ্ঠস্বরে গোটা একটি প্রজন্মকে আবিষ্ট করে রাখা বাংলা ব্যান্ডসংগীতের অবিসংবাদিত সম্রাট আইয়ুব বাচ্চু আজও কোটি বাঙালির হৃদয়ে এক পরম ভালোবাসার নাম। কনসার্টের মঞ্চে তার সেই চিরচেনা রূপালি গিটার কাঁধে দীপ্ত উপস্থিতি কিংবা শ্রোতাদের নস্টালজিয়ায় ভাসিয়ে দেওয়ার জাদুকরী মুহূর্তগুলো আজও সংগীতপ্রেমীদের মনে গভীর দাগ কেটে আছে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের কৈশোরের দিনগুলোতে পশ্চিমা রক মিউজিকের মায়ায় পড়ে নিজে নিজে গিটার বাজানো শিখে যিনি একদিন এ দেশের ব্যান্ড জগতের মানচিত্রটাই বদলে দিয়েছিলেন, সেই ক্ষণজন্মা লিজেন্ড ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর অকালেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। তার এই প্রয়াণ দিনে সংগীতাঙ্গনের মানুষ ও ভক্তরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন এমন একজন মহান শিল্পীকে, যাঁর সৃষ্টি আজও সমানভাবে স্পন্দিত হয় বাঙালির হৃদস্পন্দনে।

বিজ্ঞাপন

ষাটের দশকের শেষ বা সত্তরের দশকের শুরুর দিকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের চট্টগ্রামে রক মিউজিকের হাওয়া লাগলে কিশোর আইয়ুব বাচ্চু জিমি হ্যান্ডরিক্স বা এরিক ক্ল্যাপটনের মতো বিশ্বখ্যাত গিটার বাদকদের অনুকরণে নিজের সাধনা শুরু করেছিলেন। পরিবার ও চারপাশের নানা বাধা এবং রক্ষণশীলতার দেয়াল ভেঙে তার সেই অদম্য গিটারপ্রীতি ১৯৭৮ সালে ‘গোল্ডেন বয়েজ’ ব্যান্ডের মাধ্যমে তার পেশাদার সংগীত জীবনের দুয়ার খুলে দেয়। এরপর আশির দশকের শুরুতে চট্টগ্রামের সুপরিচিত ব্যান্ড ‘সোলস’-এ লিড গিটারিস্ট ও ভোকাল হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি মঞ্চ কাঁপাতে শুরু করেন এবং ‘সৌন্দর্য মানুষকে কাঁদায়’ কিংবা ‘যৌবনের পুলিশ প্রশাসন’-এর মতো গানে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। তবে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় সোলসের সাথে পথচলার পর নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বাংলা ব্যান্ড সংগীতে সম্পূর্ণ নতুন এক ধারা তৈরির তাগিদ অনুভব করেন এই রক আইকন।

ফলশ্রুতিতে ১৯৯০ সালের ৫ এপ্রিল তিনি গড়ে তোলেন তার স্বপ্নের ব্যান্ড ‘এলআরবি’ বা ‘লাভ রানস ব্লু’। তৎকালীন শ্রোতারা যখন সফট মেলোডি বা পপ ঘরানার গানে অভ্যস্ত, তখন আইয়ুব বাচ্চু ও তার দল ভারী রক, ব্লুজ এবং মেলোডিয়াস রকের পসরা সাজিয়ে এক যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটান। শুরুর দিকে এই ভিন্নধর্মী ধারাকে প্রতিষ্ঠিত করতে বহু লড়াই ও সংগ্রামের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাকে, কিন্তু তার আপসহীন মনোভাব ও নিখুঁত সুরের জাদুতে অল্পদিনেই পরিস্থিতি বদলে যায়। ১৯৯২ সালে প্রকাশিত এলআরবির প্রথম সেলফ-টাইটেলড অ্যালবাম এবং ১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কালজয়ী অ্যালবাম ‘সুখ’ বাংলা ব্যান্ডের ইতিহাসে এক নতুন ইতিহাস রচনা করে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে প্রথম ডাবল অ্যালবাম উপহার দেওয়ার কৃতিত্বও ছিল এলআরবির ঝুলিতে।

‘চলো বদলে যাই’, ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো’, ‘রূপালি গিটার’, ‘ফেরারী মন’, ‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতা’, কিংবা ‘মেয়ে’-এর মতো অসংখ্য অসামান্য গান তাকে অমরত্ব দান করেছে। তার গিটারের আঙুলের অবিশ্বাস্য কারসাজি এবং মায়াবী কণ্ঠ শুধু দেশীয় শ্রোতাদেরই বিমোহিত করেনি, বরং বাংলা ব্যান্ডসংগীতকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও এক অনন্য মর্যাদায় আসীন করেছে। আজ কিংবদন্তি এই শিল্পীর প্রয়াণ দিবসে তার রেখে যাওয়া সুরের মূর্ছনা তরুণ প্রজন্মের ব্যান্ড সংগীতশিল্পীদের কাছে কেবল অনুপ্রেরণার আলোকবর্তিকা নয়, বরং বাংলা রকের ইতিহাসে এক স্বর্ণালী অধ্যায়, যা কখনো ম্লান হওয়ার নয়।

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর