Monday 19 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মহাঅষ্টমী আজ: কুমারী বালিকার মাঝে আদ্যাশক্তির আবাহন

‎ ‎সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৯ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:২২

ঢাকা: আজ মহাঅষ্টমী। দেবী দুর্গার আগমনের পর ২ দিনের মহাসপ্তমীর শুভ সূচনা শেষে আজ উদযাপিত হচ্ছে দুর্গাপূজার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ মহাঅষ্টমী। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে দেবীর মহাষ্টমী কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজার মাধ্যমে দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে এবং দুপুরে ভক্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে মহা প্রসাদ।
‎
‎অষ্টমীর দিন সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মঠে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী কুমারী পূজা। এক পবিত্র ও বিশুদ্ধ নারীর রূপ কল্পনা করে কুমারী বালিকার মধ্যে দেবী পূজার মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ভক্তরা। মহাঅষ্টমীর প্রধান দুটি আকর্ষণ হলো কুমারী পূজা এবং সন্ধিপূজা।
‎
‎হিন্দুশাস্ত্র মতে, ১ থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প ও সুলক্ষণা অবিবাহিত কন্যাকে দেবী রূপে পূজা করার বিধান রয়েছে। শ্রীরামকৃষ্ণের ভাবধারায় শুদ্ধাত্মা কুমারীর মধ্যেই ভগবতীর পরম রূপ সবচেয়ে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় এবং নারীর মাতৃরূপ উপলব্ধি করাই এই পূজার মূল উদ্দেশ্য। শাস্ত্রে বয়সভেদে কুমারীদের ভিন্ন ভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়, এক বছরে সন্ধ্যা, দুইয়ে সরস্বতী, তিনে ত্রিধামূর্তি, চারে কলিকা, পাঁচে সুভাগা, ছয়ে উমা, সাতে মালনী, আটে কুজ্বিকা, নয়ে কালসন্দর্ভা, দশে অপরাজিতা, এগারোয় রুদ্রানী, বারোয় ভৈরবী, তেরোয় মহালক্ষ্মী, চোদ্দতে পীঠনায়িকা, পনেরোতে ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ষোলো বছরে তিনি অন্নদা নামে পূজিত হন।
‎
‎পূজার দিন ভোরে নির্বাচিত কুমারীকে স্নান করিয়ে নতুন বস্ত্র পরিধান করানো হয়। সিঁদুর, আলতা ও নানাবিধ অলঙ্কারে সুসজ্জিত করে তাকে আসনে বসিয়ে ষোড়শোপাচারে পূজা আর্চনা করা হয়। এই সময় মণ্ডপ প্রাঙ্গণ উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বোল ও দেবী স্তুতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। পুরোহিতদের মতে, বর্তমান আধুনিক সামাজিক ও নৈতিক সংকট নিরসনে মাতৃজাতির প্রতি যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করা অত্যন্ত জরুরি। নারী রূপের সবচেয়ে মহিমময় দিক হলো মাতৃরূপ, আর তাই মহাঅষ্টমীর দিনে কুমারী মাতার মাধ্যমে বিশ্বের সমগ্র মাতৃজাতি ও আদ্যাশক্তির চরণকমলে প্রণাম নিবেদন করা হয়।
‎
‎এছাড়াও এদিন সন্ধিপূজাকে দুর্গাপূজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করা হয়, কারণ এটি অসুর বধের ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক সন্ধিক্ষণকে নির্দেশ করে।
‎
‎মহালয়ার মাধ্যমে দেবী দুর্গার আগমণী বার্তা ধ্বনিত হলেও মূল উৎসবের আমেজ শুরু হয় ষষ্ঠী থেকে। সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী, সব দুঃখ-কষ্ট, ভয় ও যন্ত্রণা থেকে ভক্তদের রক্ষা করতেই দেবী দুর্গার আগমন। শাস্ত্রে ‘দুর্গা’ শব্দের অর্থ করা হয়েছে, যাকে কঠোর সাধনা ও দুঃখ অতিক্রম করে লাভ করা যায়। দেবী মূলত মানুষের ধৈর্য ও সহ্যক্ষমতা পরীক্ষা করেন এবং বিনম্র প্রার্থনায় সাড়া দিয়ে কষ্ট দূর করেন।
‎
‎এ বছর দেবীর আগমন ঘটেছে ঘোড়ায় চড়ে এবং আগামী দশমীর দিন তিনি বিদায় নেবেন নৌকায় চড়ে। মহানবমীর বিধান শেষে বিজয়া দশমীর দিন মহা-আরতির মাধ্যমে দেবীকে বিদায় জানানো হবে। এ উপলক্ষে ঢাকা মহানগরের পলাশীর মোড় থেকে বর্ণাঢ্য বিজয়া শোভাযাত্রা বের হয়ে সদরঘাটের ওয়াইজ ঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই সর্ববৃহৎ উৎসবের।

বিজ্ঞাপন
‎সারাবাংলা/এনএল/এনজে
বিজ্ঞাপন

সচিব পদে বড় রদবদল
১৯ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৩৬

পুলিশের ১১ কর্মকর্তাকে বদলি
১৮ অক্টোবর ২০২৬ ২২:৩৬

আরো

সম্পর্কিত খবর