ঢাকা: আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিশ্বের দূষিত নগরীগুলোর তালিকায় আবার উপরের দিকে চলে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। বৈশ্বিক বায়ুদূষণ সূচকে ঢাকা আজ তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে, যেখানে বায়ুর মান বা একিউআই স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ১৭১। এই স্কোর অনুযায়ী ঢাকার বাতাসের মানকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২৫১ স্কোর নিয়ে তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর এবং ১৮৬ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের মুম্বাই।
ঢাকার পরিবেশ ও বাতাস ক্রমাগত দূষিত হওয়ার পেছনে প্রধানত কতগুলো নির্দিষ্ট কারণ কাজ করছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর বিভিন্ন গবেষণা থেকে উঠে এসেছে যে, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং নির্মাণকাজ থেকে সৃষ্ট ধূলিকণা রাজধানীর বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান উৎস। মেগা প্রকল্পসমূহ ও বিভিন্ন ভবন নির্মাণের সময় খোলা অবস্থায় বালু, রড ও সিমেন্ট ফেলে রাখা এবং যথাযথভাবে পানি না ছিটানোর ফলে বাতাসে সূক্ষ্ম বস্তুকণা বা পিএম ২.৫ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
এছাড়া নগরীর চারপাশে গড়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী ইটভাটা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া ঢাকার বাতাসকে মারাত্মকভাবে বিষাক্ত করে তুলছে। শহরের সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী ফিটনেসবিহীন ও পুরোনো যানবাহনের কালো ধোঁয়া বাতাসে কার্বন মনোক্সাইড এবং বিষাক্ত কেমিক্যাল ছড়ায়। পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিতভাবে বর্জ্য পোড়ানো ও গাছপালা কেটে সবুজ এলাকা ধ্বংস করার কারণে বাতাসের স্বাভাবিক শোধন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।
নিয়মিত দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে থাকলে শ্বাসযন্ত্রের জটিলতা, হৃদরোগ, ফুসফুসের নানা রোগসহ ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এবং শহরের পরিবেশ বাসযোগ্য রাখতে ব্যক্তিগত ও সরকারি পর্যায় থেকে কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য ঘর থেকে বের হওয়ার সময় অবশ্যই মানসম্মত মাস্ক, বিশেষ করে এন ৯৫ মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। সংবেদনশীল ব্যক্তি যেমন শিশু, প্রবীণ, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং ফুসফুস বা শ্বাসকষ্টে ভুগছেন এমন মানুষদের খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে চলাফেরা সীমিত রাখা অত্যন্ত জরুরি। বাসাবাড়িতে বা ঘরে আলো-বাতাসের সুব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি ঘরের ধূলিকণা পরিষ্কার রাখা দরকার।
সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় থেকেও জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। রাস্তাঘাট নিয়মিত পরিষ্কার করা ও দৈনিক পর্যাপ্ত পানি ছিটানো নিশ্চিত করতে হবে যাতে ধুলাবালি না উড়ে। নির্মাণকাজ চলাকালীন পুরো এলাকা ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক করা আবশ্যক। ফিটনেসবিহীন ও কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ইটভাটা তৈরি করতে হবে এবং অনুমোদনহীন ইটভাটাগুলো দ্রুত বন্ধ করে দিতে হবে। সর্বোপরি, যত্রতত্র আবর্জনা পোড়ানো পুরোপুরি বন্ধ করা এবং নগরে গাছপালা লাগিয়ে সবুজায়নের বিস্তার ঘটানোই বায়ুদূষণ কমানোর একমাত্র টেকসই সমাধান।